Home সারাদেশ বার্তা দূর্গাপুর-কলমাকান্দায় আওয়া লীগের তৃণমূল নেতাদের এমপি ভীতি!

দূর্গাপুর-কলমাকান্দায় আওয়া লীগের তৃণমূল নেতাদের এমপি ভীতি!

37
0

নিজস্ব প্রবিবেদক :দূর্গাপুর-কলমাকান্দায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাদের এমপি ভীতি আর আতংক নিয়ে দিন কাটাচ্ছে দুই উপজেলার তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। এমপির গ্রেফতার আতংকে অনেক পরিবার ঘরছাড়া, এমপির সর্মথকদের দায়েরকৃত মামলায় গ্রেফতার হয়েছে দুই আওয়ামী লীগ নেতা।

দুই উপজেলার আওয়ামীলীগ নেতৃবৃন্দ সূত্রে জানা যায়, নেত্রকোণা-১ আসনের এমপি মানু মজুমদার কে নিয়ে একটি  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মন্তব্য করায় দূর্গাপুর উপজেলা বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারন সম্পাদক ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা আমিনূল হক মাষ্টার ও কলমাকান্দার বাদে আমতৈল এলাকার যুবলীগ নেতা রমজান মিয়ার বিরুদ্ধে দূর্গাপুরের গিলবার্ড চিছাম বাদী হয়ে (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮) মামলা করে, মঙ্গলবার বিকেলে দূর্গাপুর থানা পুলিশ নেত্রকোণা আদালতের মাধ্যমে কারাবন্দী করে। এতে ওই দুই উপজেলা সহ জেলা পর্যায়ে নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় বইছে।  এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আমিনুল মাষ্টার পরোপকারী শান্ত শিষ্ট মানুষ । 

দূর্গাপুরের আওয়ামী লীগের প্রবীণ এক নেতা বলেন, দূর্গাপুরে বর্তমান এমপি ও তার শ্যালক তমু বিশ্বাস ভারতীয় নাগরিক পাপ্পু, রুপন সাহা, বিএনপির সক্রিয় কর্মী সুমন এবং কলমাকান্দায় তাঁর শ্বশুর বাড়ীর আত্মীয় স্বজন  ক্ষমতার চরম অপব্যবহার করছে, যেখানে আওয়ামী লীগের ত্যাগীরাই ভুক্তভোগী। 

বিগত পাঁচ বছর মানু মজুমদারের স্ত্রীর বড় ভাই ছবি বিশ্বাসের আমলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের উপর হামলা করা হয়েছে। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে- এমনকি কলমাকান্দা আওয়ামী লীগের এক জনপ্রিয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যানকে একাধিক মিথ্যা মামলায় হাজত খাটিয়েছে ।

তিনি বলেন, হান্নান, বিপ্লব মজুমদার, রনি চক্রবর্তী, পাবেল চৌধুরী, গোলাপ বিশ্বাস, অমিত সরকারদের মত ফেইসবুক সক্রিয় কর্মীদের রুহী সাহেবের বিরুদ্ধে গোপনে ডেকে ভয় দেখিয়ে অগ্রহনীয় পোষ্ট শেয়ার করিয়েছে। শুধু তাই নয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ডেকে হুমকি দিচ্ছে তাদের সাথে না থাকলে থানায় পেন্ডিং হত্যা মামলা সহ বিভিন্ন মামলায় অজ্ঞাতনামা আসামীতে তাদের নাম ঢুকিয়ে রিমান্ডে নেবে। এমন ভীতিকর অবস্থায় আমরা কি করবো ভেবে পাচ্ছি না। ক্ষোভের সাথে এই নেতা বলেন, তাহলে আমরা কি আওয়ামী লীগ করবো না !  তিনি আরো বলেন, সত্য বলায় দল ক্ষমতায় তবুও পুলিশী তল্লাশীতে কর্মীদের ঘরে থাকা হুমকি হয়ে দাড়িয়েছে। এ সময় প্রশ্ন তোলেন, তবে কি সত্য বলতে গিয়ে পদে পদে বিপদের সম্মুখীন হতে হবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেতা-কর্মীদেরকেই ? তাহলে কি  নেতা-কর্মীদের বাকস্বাধীনতা থাকবে না। এলাকায় যেভাবে এমপি’র লোকের ভয়ানক আধিপত্য তাতে আমাদের ভিতরে ভীতি কাজ করছে।

ওই এলাকার আওয়ামী লীগের তথা তৃণমূলের প্রবীন আরেক নেতা বলেন, সারাজীবন রাজনীতি করেছি। বাপ-দাদাও আওয়ামী লীগ করতো। তারাও যেমন ভোগবিলাস এসব কিছুই করেনি, আমরাও সেসব শিখিনি। তবুও এখন শেষ বয়সে এসে পদ হারানোর ভয় কাজ করছে।

তিনি বলেন রাজনীতি এখন রাজনীতিবিদদের হাতে নাই বললেই চলে। আমাদের এমপি মানু মজুমদার, নির্বাচনের পূর্বে জনমত জরীপ দুরের কথা তাকে সাধারণ জনগণ কেউই চিনতো না কারণ-তাঁর বাড়ী এখানে নয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দূর্গাপুরের এক সাংবাদিক বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মোশতাক আহমেদ রুহী সাহেবের সমর্থনকারী এবং আওয়ামী লীগের দূর্গাপুর-কলমাকান্দার তৃণমূল পর্যায়ের ত্যাগী নেতারাই ভূক্তভোগী, তাদের নিজদলের নেতা-কর্মীদের বাক-স্বাধীনতা নাই, আমরা আবার কি করে সংবাদ প্রকাশ করি।

একজন সাধারন নাগরিক বলেন, তাঁদের কান্ডজ্ঞানহীন কর্মকান্ডে এলাবাসীর নাভিশ্বাস উঠেছে। সত্য কথা বললেই তৃণমূল নেতা- কর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়। হাইকমান্ডের কাছে প্রত্যাশা করি দল ক্ষমতায় তবুও এমন গর্হিত অন্যায়ের বিচার।

ওই এলাকার বিজ্ঞ এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে যে মামলা হয়েছে তা মিথ্যা মূলত ক্ষমতার অপব্যবহার, কারণ- ফেইসবুকে যেসব লেখা হয়েছে তা তো সত্যই। আসল ঘটনা হলো, সাবেক জনপ্রিয় উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লেলিনের অকাল মুত্যুতে তার পরিবার কে সমবেদনা জানাতে দীর্ঘদিন পর এলাকায় আসেন নবম জাতীয় সংসদ সদস্য আলহ্বাজ মোশতাক আহমেদ রুহী এবং কয়েকদিন এলাকায় অবস্থান করেন। সেসময় হাজার কর্মী সমর্থক, তৃণমূল নেতৃবৃন্দ সহ সাধারণ জনতা তার সাথে দেখা করতে আসেন। তিনি এলাকা ত্যাগ করার পর ঈর্ষাম্বিত হয়ে এমপির নির্দেশে গভীর রাতে গ্রামে গ্রামে কর্মীদের বাড়ীতে পুলিশি তল্লাশী চালায় ভীতি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে। রাতেই দুইজনকে গ্রেফতার করান। শুধূ তাই নয় কয়েকজনের একটা চক্র কর্মীদের ডেকে হুমকি দিচ্ছে তাদের সাথে না থাকলে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়ে দিবে। বিগত সংসদ নির্বাচনকালীন সময়ে কলমাকান্দা উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক মুনিরের পকেটে জাল টাকা ঢুকিয়ে জেলে পাঠিয়েছিল ।

মাসুম চেয়ারম্যানকেও মিথ্যা মামলায় প্রায় দুই মাস কারাবরন করতে হয়েছিল !

আরেক জন এলাকাবাসী বলেন, বর্তমান এমপি মানু মজুমদার স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়া সত্বেও ( তার বাড়ী কোথায় জানি না ) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ওনার পছন্দের লোককে দুর্গাপুর- কলমাকান্দাতে কেন এমপি বানিয়েছে জানি না ।এমপি বিভিন্ন জায়গাতে যেসব কথা বলে বেড়ায় তা মানুষকে আতঙ্কিত করে।  তিনি বলেন অপকর্মের লাইসেন্স এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার করার অনুমতি কে দিয়েছে তাও জানি না ! তবে এটা জানি  কিছুই হবে না এই রোহিঙ্গা এমপির। যত নিউজ এর লেখালেখি হোক না কেন সেই এমপির কিছুই হবেনা। যে ব্যাক্তি হাইকোর্টের মত জায়গাতে তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নজীরবিহীন জালিয়াতি করতে পারে সেখানে দুর্গাপুর কলমাকান্দা তো ডাল ভাত। যতক্ষণ প্রধানমন্ত্রী এই দিকে নজর না দিবেন ততক্ষণ এই এমপির দ্বারা নেতাকর্মী নির্যাতিত হতেই থাকবে । তবে আমি এখনো আশায় আছি যে নেত্রী এই দিকে নজর দিবেন।

দূর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ মিজানুর রহমান জানান, “ নতুন দিনের আলো ” নামক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে বর্তমান এমপি সাহেব কে নিয়ে বাজে লেখা আসে তাতে আটককৃত দুইজন মন্তব্য করে এরই প্রেক্ষিতে গিলবার্ড চিছাম বাদী হয়ে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেছেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে ওই দুইজনকে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট আদালতে সোপর্দ করলে আদালত জামিন না মঞ্জর করে কারাগারে প্রেরণ করে। পরে আজ বৃহস্পতিবার দূর্গাপুর পুলিশ রিমান্ড চাইলে জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্টেট স্বর্ণ কমল সেন ২ দিনের রিমান্ড মন্জুর করেছেন।