Home কক্সবাজার ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের ১৩টি অংশে পানি

ভারী বর্ষণে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের ১৩টি অংশে পানি

78
0

ভারী বর্ষণের ফলে গতকাল শনিবার কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক সড়কের ১৩টি অংশে পানি উঠেছে। পাশাপাশি ঝোড়ো হাওয়ায় গাছ ভেঙে পড়ায় সড়কটিতে প্রায় ছয় ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েছে শত শত যাত্রী। এ ছাড়া বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার ও টেকনাফের ২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বৃষ্টিতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বিসিক শিল্পনগরী এলাকা, মিঠাছড়ি, কোটবাজার, উখিয়াবাজার, কুতুপালং, বালুখালী, পালংখালী, হোয়াইক্যং, হ্নীলাসহ অন্তত ১৩টি অংশ জলমগ্ন হয়ে পড়েছে।

গতকাল সকাল ছয়টার দিকে ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় বিশাল একটি শিশুগাছ টেকনাফের লেদা এলাকায় সড়কের ওপর ভেঙে পড়ে। এরপর দীর্ঘ ছয় ঘণ্টা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এ সময় দূরপাল্লার শতাধিক যাত্রীবাহী বাস আটকা পড়ে। দুপুরে ১২টার দিকে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মীরা গাছটি কেটে সরিয়ে নিলে যানবাহন চলাচল পুনরায় শুরু হয়। 

এ ছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের ১৩ স্থানে পানি ওঠার কারণে সড়কে সারা দিন ধরেই যানবাহন চলেছে ধীরগতিতে। এতে যানজটে নাকাল হতে হয়েছে যাত্রী ও পথচারীদের।

 উখিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৪টি আশ্রয়শিবিরে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। রোহিঙ্গাদের ত্রাণসহ প্রয়োজনীয় মালামাল এ সড়ক দিয়ে শিবিরে সরবরাহ করা হয়। শিবিরে কর্মরত সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেড় হাজার যানবাহন সড়কটি দিয়ে চলাচল করে। পানি ওঠায় এ সড়কে সাহায্য সংস্থা ও ত্রাণবাহী গাড়ি চলাচলে বিঘ্ন ঘটেছে। সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি ওঠায় যানবাহন চলাচল করছে ঝুঁকি নিয়ে। 

বাসের চালকেরা জানান, সড়কে দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংস্কারকাজের কারণে পানি সরতে পারছে না। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে পানি জমে গেছে। 

 উখিয়া বাস-মিনিবাস মালিক শ্রমিক সমিতির সভাপতি নুরুল আমিন সিকদার বলেন, গত ফেব্রুয়ারি মাসে সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হলেও অগ্রগতি সামান্য। সড়কের দুই পাশে সংস্কার চলায় পানি সরতে পারেনি। এ কারণে সড়ক ডুবে গেছে।

সওজের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বলেন, ৭৯ কিলোমিটারের টেকনাফ সড়কের মধ্যে প্রথম ধাপে ৫০ কিলোমিটার সড়কের সংস্কারকাজ চলছে। সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল হয়ে যাওয়ায় কাজ শেষ করতে সময় লাগছে।

২৩ গ্রামে জোয়ারের প্লাবন

এদিকে ভারী বর্ষণ ও বঙ্গোপসাগরের জোয়ারের কারণে জেলার কুতুবদিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফের ২৩টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের ধাক্কায় কক্সবাজার সৈকতের সমিতিপাড়া, ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট ও শৈবাল পয়েন্টে শতাধিক ঝাউগাছ উপড়ে পড়েছে। 

কক্সবাজার সদরের ৩টি, কুতুবদিয়ার ১২টি, মহেশখালীর ৪টি এবং টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিনের ৪টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে। 

সেন্ট মার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, ভারী বর্ষণ ও ঝোড়ো হাওয়ায় দ্বীপের অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাগর প্রচণ্ড উত্তাল। জোয়ারের ধাক্কায় দ্বীপের পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ অংশের কিছু ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। 

পৌর শহরজুড়ে জলাবদ্ধতা

কক্সবাজার পৌর শহরে গতকাল সারা দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত সৈকতের হোটেল–মোটেল জোন এলাকার প্রধান সড়কটি পানিতে নিমজ্জিত ছিল। পৌরসভার প্রধান সড়কের এন্ডারসন রোড, নূরপাড়া, বাজারঘাটা, বার্মিজ মার্কেট, রুমালিয়ারছড়াসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। নর্দমার ময়লা-আবর্জনাযুক্ত পানি সড়কে উঠে এসেছে। 

পৌরসভার প্যানেল মেয়র শাহেনা আকতার বলেন, নালা দখল করে ঘরবাড়ি, দোকানপাট তৈরি করায় বৃষ্টির পানি নামতে পারছে না।