Home সারাদেশ বার্তা মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েও বিচার পায়নি প্রিয়াঃসংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

মন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েও বিচার পায়নি প্রিয়াঃসংবাদ সম্মেলনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ

355
0

পৈত্রিক বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় প্রিয়া সাহা মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেও বিচার পাননি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়ি যে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছিল, এটি সত্য। বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় এ সংবাদ যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়। প্রিয়া সাহা আমার সামনেই শহীদ মিনারে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু রেজাউল করিম সাহেব সম্মানজনকভাবে তার সঙ্গে কোনও কথা বলতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এগুলো আমার চোখের সামনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্যক্তির যদি ঘর-বাড়ি জ্বলে থাকে, তাও আবার মানবাধিকার কর্মী প্রিয়া সাহার পৈত্রিক বাড়ি, সাধারণ হিন্দুদের কথা বাদই দেন, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টানদের কথা বাদ দেন। আপনারা নিজেদের কথা বিবেচনা করেন, আপনাদের বাড়ি-ঘর যদি জ্বালিয়ে দেয়া হতো? বিচার চাওয়ার পরও কোথাও বিচারের মুখোমুখি না হতেন, আপনাদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ হতো কি না?

এই আইনজীবী বলেন, ডোনাল ট্রাম্পের কাছে কী বলেছেন এটা আমাদের বিচার্য নয়। ক্ষোভ থেকে বলেছেন কি না সেটাও আমরা জানি না। তবে এ কথা ঠিক ক্ষোভ হতেই পারে। আমি ক্ষতিগ্রস্থ হলাম বিচার চাইলাম, মামলা করলাম। কিন্ত কেউ নেই। বরং উল্টো কথা, প্রিয়া সাহা নাকি নিজের বাড়ি জ্বালিয়ে দিয়েছেন। এটা হয়?

লিখিত বক্তব্যে রানা দাশগুপ্ত বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য নিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের যে অপপ্রয়াস আমরা প্রত্যক্ষ করেছি, ব্যক্তির বক্তব্যকে পুঁজি করে সম্প্রদায়বিশেষকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর যে ঘৃণ্য অভিসন্ধি আমরা লক্ষ্য করেছি, তা দুর্ভাগ্যজনক। এর মধ্যে গত ২১ জুলাই প্রিয়া সাহার কাছ থেকে ব্যাখ্যা জানার আগে তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেয়ার পাশাপাশি তার পরিবারের জীবন ও সম্পদ রক্ষার ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা গোটা জাতিকে আশ্বস্ত করেছে।

প্রিয়া সাহাকে সংগঠন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো কোনো মার্কিন গণমাধ্যমে আমাকে সংগঠনের সভাপতি, প্রিয়া সাহাকে সাধারণ সম্পাদকের পরিচয় দেয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আমি বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি নই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে এহেন সাংগঠনিক পরিচিতি নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির পরিপ্রেক্ষিতে এটিকে ‘সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ড’ বিবেচনায় ঐক্য পরিষদের গত ২৩ জুলাইয়ের কেন্দ্রীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভায় প্রিয়া সাহাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করে সকল সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তিনি ঢাকায় ফিরে এলে তার বক্তব্য শুনে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যতন বন্ধ হয়েছে কি না? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্যাতন বন্ধ আছে কি না সেটা তো বলেছিই। আগে যে রেঞ্জে (অনুপাতে) ছিল তার থেকে কমতি ঠিকই আছে। কিন্তু আমরা তো বলেছি নির্যাতনের ধারাটা অব্যহত আছে।