Home অন্যান্য যেকোনো সময় ভালো খবর দেবে পিবিআই

যেকোনো সময় ভালো খবর দেবে পিবিআই

66
0

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) জানিয়েছে, আগুনে পুড়িয়ে ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত চারজনকে তারা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। দুজন গ্রেপ্তার আছেন, বাকি দুজনকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে। যেকোনো সময় পিবিআই এ বিষয়ে সবাইকে ভালো খবর দিতে পারবে।

নুসরাত হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম। তাঁরা দুজনই স্বীকারোক্তিতে বলেছেন, কারাগার থেকে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার পরামর্শ ও নির্দেশে নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়া হয়েছিল। গতকাল রোববার রাতে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইনের আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। গতকাল বিকেল তিনটা থেকে রাত একটা পর্যন্ত তাঁদের দুজনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

এই দুজনের জবানবন্দি রেকর্ডের পর রাত ১টা ৫ মিনিটের দিকে পিবিআইয়ের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তাহেরুল হক চৌহান সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। এ সময় পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. শাহ আলম উপস্থিত ছিলেন।

তাহেরুল হক চৌহান বলেন, পিবিআই এ মামলার দায়িত্ব পাওয়ার চার দিনের মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত দীর্ঘ সময় ধরে তাঁদের দুজনের ১৬৪ ধারার জবানবন্দির পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। নুর উদ্দিন ও শাহাদাত হোসেন শামিম জবানবন্দিতে পুরো বিষয় খোলাসা করেছেন। কারা, কীভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, কী প্রক্রিয়ায় ঘটিয়েছেন, বিস্তারিত বলেছেন। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে সবকিছু এখনই বলা যাবে না। তিনি আরও বলেন, আসামিরা অপরাধ স্বীকার করে বলেছেন যে তাঁরা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তাঁরা জেলখানা থেকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার হুকুম পেয়েছেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, এ পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ১৩ জনের নাম পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বিক্ষিপ্তভাবে আরও কিছু নাম এসেছে। সেগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত খতিয়ে দেখে সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে নুর উদ্দিন এবং পরের দিন শুক্রবার সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থেকে শাহাদাত হোসেন শামিমকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। নুসরাত হত্যা মামলার ২ নম্বর আসামি নুর উদ্দিন এবং শাহাদাত হোসেন শামিম ৩ নম্বর আসামি।

নুসরাত হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ছাড়াও সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর আগে ৯ এপ্রিল জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম সরাফ উদ্দিন আহম্মেদের আদালত নূর হোসেন, কেফায়াত উল্যাহ, মোহাম্মদ আলা উদ্দিন ও শহিদুল ইসলামকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন। ১০ এপ্রিল অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে সাত দিন এবং আবছার উদ্দিন ও আরিফুল ইসলামকে পাঁচ দিন করে রিমান্ডের আদেশ দেন একই আদালতের বিচারক। পরের দিন ১১ এপ্রিল উম্মে সুলতানা পপি ও যোবায়ের হোসেনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ১৩ এপ্রিল জাবেদ হোসেনকে সাত দিনের রিমান্ড দেন জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. জাকির হোসাইন।

৬ এপ্রিল সকালে আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় যান নুসরাত জাহান রাফি। কয়েকজন তাঁকে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করা মামলা তুলে নিতে চাপ দেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তাঁর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, পৌর কাউন্সিলর মুকছুদ আলমসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন রাফির বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান। ১০ এপ্রিল রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে মারা যান অগ্নিদগ্ধ নুসরাত।

এর আগে ২৭ এপ্রিল ওই ছাত্রীকে নিজ কক্ষে নিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সে ঘটনার পর থেকে তিনি কারাগারে আছেন। যৌন নিপীড়নের ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা করেন। ওই মামলা তুলে নিতে অস্বীকৃতি জানানোয় নুসরাতের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।