Home অন্যান্য লাইফ সাপোর্টে সুবীর নন্দী

লাইফ সাপোর্টে সুবীর নন্দী

36
0

একুশে পদক পাওয়া জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী গুরুতর অসুস্থ। গতকাল রোববার রাতে তিনি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন। তাঁকে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়েছে। আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রাশেদুল আলম খান জানিয়েছেন, হাসপাতালে আনার পর সুবীর নন্দীকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। এখানে তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়। তাঁকে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ৭২ ঘণ্টা পর তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত বলা যাবে।

সুবীর নন্দী এখন সিএমএইচে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. তৌফিক এলাহির তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন।

এদিকে আজ সোমবার সকালে সুবীর নন্দীকে দেখতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সিএমএইচে যান জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জাতীয় সমন্বয়ক সামন্ত লাল সেন। সেখান থেকে ফিরে এসে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘অবস্থা ভালো না। সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ডায়াবেটিস রোগে ভুগছেন। তাঁর হার্টে বাইপাস অপারেশন হয়েছে। কিডনির সমস্যা আছে। নিয়মিত ডায়ালাইসিস করাতে হয়। গতকাল হাসপাতালে আনার পর তাঁর মারাত্মক কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল। এখন তাঁকে লাইফ সাপোর্ট দিয়ে রাখা হয়েছে। প্লিজ, সবাইকে তাঁর জন্য দোয়া করতে বলবেন।’

সুবীর নন্দীর জামাতা ড. রাজেশ সিকদার আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা মৌলভীবাজার গিয়েছিলাম, আত্মীয়ের বাড়িতে। সেখানে একটা অনুষ্ঠান ছিল। ঢাকায় ফেরার ট্রেনে ওঠার জন্য বিকেলে মৌলভীবাজার থেকে শ্রীমঙ্গলে চলে আসি। বাবা ট্রেনেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। ভাগ্যক্রমে সেখানে একজন চিকিৎসক ছিলেন। তাঁর পরামর্শে আমরা বিমানবন্দর স্টেশনে নেমে যাই। আমরা বাবাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কারণ দীর্ঘদিন সেখানেই তিনি চিকিৎসা করাচ্ছেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রাত ১১টার দিকে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাই।’

গতকাল রাত ১২টার দিকে সুবীর নন্দীর অসুস্থতার খবর প্রকাশ না করার জন্য প্রথম আলোকে অনুরোধ করেন ড. রাজেশ সিকদার। এ ব্যাপারে আজ সকালে তিনি বলেন, ‘বাবা কখনোই চাননি তাঁর এসব খবর সবাই জানুক। গতকালও ট্রেনে ঢাকা ফেরার সময় এ কথা বলেছেন। আসলে তিনি সহানুভূতি পেতে পছন্দ করেন না। তাঁকে নিয়ে সবাই উদ্বিগ্ন হন, এটা তিনি চাননি।’

বরেণ্য সংগীতশিল্পী সুবীর নন্দী ৪০ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। পাঁচবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।