Home পার্বত্য বার্তা লামায় খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ, বিলীনের ঝুঁকিতে খালঘেঁষা ৫০ বসতবাড়ি

লামায় খাল পুনঃখননে অনিয়মের অভিযোগ, বিলীনের ঝুঁকিতে খালঘেঁষা ৫০ বসতবাড়ি

61
0

লামা উপজেলার পৌর সদরের মধুঝিরি খাল পুনঃখননের পর ৫০টি বসতবাড়ি খালগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর-এ-জান্নাত রুমি সরেজমিন পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, পুনঃখননকৃত মধুঝিরি খালের ভাঙন রোধ ও বসতবাড়িসহ স্থাপনা রক্ষায় তড়িত্ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোটো নদী, খাল এবং জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প (১ম পর্যায়) এর আওতায় বান্দরবান জেলার লামা উপজেলার মধুঝিরি খালের ৩.৮০ কিলোমিটার পুনঃখনন কাজের জন্য প্যাকেজ গ্রহণ করে। ৮৫.২৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত মূল্যের এই প্যাকেজটি বাস্তবায়নের জন্য মেসার্স মোস্তফা এন্ড সন্স নামক ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৮৫.৭৫ লাখ টাকা চুক্তিমূল্যে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি প্যাকেজের কার্যক্রম শুরু হয়ে গত ২৭ জুন প্যাকেজের কার্যক্রম সমাপ্ত হয়। কাজ চলাকালীন সময়ে স্থানীয় জনসাধারণ খনন কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

তাছাড়া, সাম্প্রতিক অতিবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সদ্য পুনঃখননকৃত মধুঝিরি খালের উপর নির্মিত দুইটি কালভার্ট ধসে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

মধুঝিরি খালপাড়ের অধিবাসী এস কে খগেশপ্রতি চন্দ্র খোকন জানান, খনন কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিগণ স্থানীয় জনসাধারণের কাছ থেকে বিভিন্ন হারে টাকা আদায় করেছে। যারা টাকা দেয়নি তাদের বসতবাড়ি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রেখে খালের পুনঃখনন করা হয়েছে। একই অভিযোগ করেছেন ৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. কামাল উদ্দিন। স্থানীয় জনসাধারণ এসকল অনিয়মের প্রতিবাদ করায় থানায় অভিযোগ দিয়ে প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অপরিকল্পিত ডিজাইন, প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ না করা, বাস্তবতা বিবর্জিত স্পেসিফিকেশন এবং নির্মাণ কাজে অনিয়মের কারণে মধুঝিরি খালের পুনঃখনন কাজ জনভোগান্তির কারণ হয়েছে বলে বিভিন্ন মহল জানিয়েছেন। গত ১৫ দিনে অনেকের মূল্যবান অবকাঠামো এবং জমি খালগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

লামা পৌরসভার মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, মধুঝিরি খাল পুনঃখনন করার পর বর্তমানে খালপাড়ের ৫০টির অধিক বসতবাড়িসহ মূল্যবান স্থাপনা যে কোনো মুহূর্তে খালেরগর্ভে বিলীন হওয়ার উপক্রম হয়েছে। লামা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামাল জানিয়েছেন, সমতল এলাকার খাল খনন এবং পাহাড়ি এলাকার ঝিরি খনন একই ডিজাইনের করায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাছাড়া নির্মাণ কাজে নিয়োজিতগণ স্থানীয় জনসাধারণের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করেছে বলে তিনি শুনেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান জানিয়েছেন, সদ্য পুনঃখননকৃত মধুঝিরি খালের বিষয়টির বর্তমান অবস্থা প্রকল্প পরিচালককে জানানো হয়েছে। খালের উভয় পাশের বসতবাড়ি ও অবকাঠামো রক্ষায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ঠিকাদার নির্বাচন কাজ চলছে। শিগগিরই বসতবাড়ি এবং অবকাঠামো রক্ষায় বল্লী, বস্তা এবং প্রয়োজনীয় উপকরণ দিয়ে প্রোটেকশন কাজ শুরু হবে।