Home কক্সবাজার শহর রক্ষা বাঁধে ইঁদুরের বাসা

শহর রক্ষা বাঁধে ইঁদুরের বাসা

117
0

নীলফামারীর সৈয়দপরে খড়খড়িয়া নদীতে শহর রক্ষা বাঁধে বাসা বেঁধেছে ইঁদুরের দল। আর এ সব ইঁদুরের দল বাঁধে শত শত গর্ত করেছে। ইঁদুরের গর্তের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধটি। চলতি বর্ষা মৌসুমে বন্যা দেখা দিলে কিংবা উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নেমে এলে শহর রক্ষা বাঁধটি ভেঙে প্লাবিত হতে পারে সৈয়দপুর শহরসহ বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। চলতি বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড বাঁধটি মেরামত বা সংস্কার না করায় চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সৈয়দপুর শহরবাসী।

সূত্রমতে, সৈয়দপুর শহর রক্ষায় শহরের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে খড়খড়িয়া নদীর পূর্বপাড়ে বিগত  ১৯৬৫ সালে শহর রক্ষা বাঁধটি নির্মাণ করা হয়। প্রথমে ৭ কিলোমিটার এবং পরে আরো সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করা হয়। যার প্রস্থ ১৮ ফুট ও উচ্চতা ১০ ফুট। পাউবোর ওই বাঁধের ওপর দিয়ে অবাধে ভারী ট্রাক্টর চলাচল এবং ইঁদুরের গর্তের কারণে বাঁধটি জরাজীর্ণ হলে ২০১৭ সালের আগস্টে আকস্মিক বন্যায় পাটোয়ারীপাড়া নামক স্থানে প্রায় ১০০ শত ফুট বাঁধ ভেঙে যায়। এতে সৈয়দপুর বিমানবন্দরসহ শহরের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পানিবন্দি হয়ে পড়ে কয়েক হাজার পরিবার। কোমর পানিতে তলিয়ে যায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল, সৈয়দপুর মহাবিদ্যালয়, স্টেডিয়ামসহ শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো। 

সে সময় খড়খড়িয়া নদীর শহর রক্ষা বাঁধ ভেঙে পানির তোড়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের পূর্ব ও পশ্চিম দিকের প্রায় ২ শ ফুট সীমানাপ্রাচীর ধসে পড়ে। ওই বছর সাড়ে ১৫ কিলোমিটার সৈয়দপুর শহর বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশসহ বাঁধের ৬ কিলোমিটার পর্যন্ত যেনতেনভাবে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কারের কাজ করে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো। কিন্তু পরবর্তীতে বাঁধটি আর কোনো সংস্কার করা হয়নি। বাঁধে ইঁদুরের গর্ত আর বাঁধঘেঁষে পুকুর খনন ও মাটি কেটে নেওয়ায় এবারে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধটি।

সৈয়দপুর শহরের বাসিন্দা রুহুল আলম মাস্টার বলেন, শহর রক্ষা বাঁধটি গেল অর্থবছরে লোকদেখানো সংস্কার করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাঁধের গোড়ার মাটি কেটে সংস্কার, ইঁদুর গর্ত ভরাট না করায় এবং বাঁধের কোলঘেঁষে পুকুর খনন করার ফলে চলতি বর্ষায় আকস্মিক বন্যা হলে কিংবা উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বাঁধটি আবারো ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। 

আজ বুধবার সকালে সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল চন্দ্র সরকারে সঙ্গে তাঁর অফিসে বসে খড়খড়িয়া নদীর শহর রক্ষা বাঁধ নিয়ে কথা হয় এ প্রতিনিধির। এ সময় তিনি খড়খড়িয়া নদীর সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধে ঈঁদুরের গর্তের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গত মঙ্গলবার আমি নিজেই শহর রক্ষা বাঁধটি দেখে এসেছি। ওই দিন থেকে বাঁধের ইঁদুরের গর্তে বিষটোপ দেওয়া শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও বাঁধের মধ্যকার ইঁদুরের গর্তগুলো ভরাট করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বাঁধে আমাদের সার্বক্ষণিক নজর রয়েছে। কোথাও কোনো সমস্যা হলে আমরা সঙ্গে সঙ্গে তা মেরামতের ব্যবস্থা নেব বলে জানান তিনি।