Home সারাদেশ বার্তা ইসকনের প্রসাদ বিতরণ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন প্রধান শিক্ষক আশরাফ

ইসকনের প্রসাদ বিতরণ নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করলেন প্রধান শিক্ষক আশরাফ

2063
0

ইসকন নিয়ে বিভ্রান্তি এবং ধর্মীয় উস্কানিমুলক ভিডিও কিংবা কথাবার্তা নিছক উদ্দেশ্য প্রনোদিত স্বার্থান্বেষী মহলের গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ। কিছু ধর্মের নামে গুজব ছড়ানোর লোক আছে যারা বসন্তের কোকিলের মত তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাদের থেকে সাবধান।

বাকলিয়া আর্দশ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম তার ব্যক্তিগত ভেরিফাইড ফেইজবুক আইডিতে এক পোস্টে লিখেন, একসময় খাজা মাঈনউদ্দিন (র:), শাহজালাল(র:), শাহ পরান(র:) , বায়েজিদ বোস্তামি(র:), বদর আউলিয়া, মোহছেন আউলিয়া, আমানত শাহ এদের মতো বড় বুজুর্গ অলি ছিলো ,তখন মুসলমান ছিলো অতি নগন্য । আর এখন সবাই মুসলমান কিন্তু পীর, দরবেশ, অলি , কামেল পাওয়া যাচ্ছে না, থাকলেও অতি নগন্য ।ধরি, সারা বিশ্বের সবাই মুসলমান হয়ে গেলো , কিন্তু একজনও প্রকৃত ঈমানদার নেই ,তাহলে নিশ্চিত কেয়ামত সংঘটিত হবে । তাই এখন মুসলমান হিসাব না করে, ঈমানদার হিসাব করা ভালো । কত মুসলমান রমজানে দিনের বেলায় হিন্দু হোটেলে খায় তার খবর কে রাখে । শতভাগ ঈমান নিয়ে বাঁচতে চাইলে, অন্যদিকে নজর দেওয়ার সময় থাকে না, সেটা একমাত্র যারা সৎ ও ঈমানদার তাঁরা ভালো বুঝে। তাই তাঁরা দুনিয়া হতে পালানোর চেষ্টা করে।

হুবহু পোস্টটি পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

গত ৭ জুলাই রবিবার আনুমানিক দুপুর ১:০০ টায় লাল কাপড় পরিহিত তিনজন সন্ন্যাসী আমার অফিসে আসে এবং “ইসকন ফুড ফর লাইফ” নামক সংস্থার উদ্যোগে প্রসাদ বিতরণের অনুমতি প্রার্থনা করে । প্রসাদের গুণ, মান বলতে গিয়ে বললো, এটা শুধু সয়া দিয়ে রান্না করা সবজি খিচুড়ি এবং নিজেদের সম্পর্কে বলতে গিয়ে বললো, তাঁরা সকল প্রকারের আসক্তির ঊর্ধ্বে ।অর্থাৎ বিবাহ, নারীসঙ্গ, নেশা এবং আমিষ এর সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা নাই, রসায়নের ভাষায় যাকে নিষ্ক্রিয় গ্যাস বলা যেতে পারে । উনাদের কথা শেষে আমি বিদ্যালয়ের সভাপতি মহোদয়কে ফোন করি অনুমতি দেওয়া যায় কিনা জানার জন্য । তিঁনি মসজিদে থাকায় কয়েকবার কল করেও পেলাম না । এদিকে আমি উভয় সঙ্কটে । অনুমতি দেব, নাকি দেব না । যেহেতু আমার মুখে দাড়ি আছে না দিলে হয়তো বলবে, বেটা মনে হয় জামাত-বিএনপি । অনেক চিন্তা-ভাবনা করলাম । ভেবে দেখলাম, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ হতে সকল ছাত্রীকে প্রসাদ বিতরণ করা হলে, ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে । তাই শুধুমাত্র হিন্দু ছাত্রীদের একটি শ্রেণিকক্ষে বসিয়ে প্রসাদ বিতরণের ব্যবস্থা করার জন্য বিদ্যালয়ের হিন্দু ধর্মীয় শিক্ষিকা জনাব লাকী দেবী-কে দায়িত্ব অর্পণ করে সন্ন্যাসীদের প্রসাদ বিতরণের অনুমতি প্রদান করি । হিন্দু ধর্মাবলম্বী আরো কয়েকজন শিক্ষিকা-কে সাথে নিয়ে জনাব লাকী দেবী অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশে শুধুমাত্র হিন্দু ছাত্রীদের বিদ্যালয়ের ২০৭ নং কক্ষে বসিয়ে প্রসাদ বিতরণে সন্ন্যাসীদের সাহায্য করেন । সব হিন্দু ছাত্রী প্রসাদ গ্রহণ করে নি । হিন্দুদের মধ্যে হয়তো শ্রেণিবিভাজন আছে, কিংবা তারা দুপুরের লাঞ্চ নিয়ে এসেছিল । বিদ্যালয়ে মোট ছাত্রী প্রায় ১৪৩০ জন , তার মধ্যে প্রায় ২৭৫ জন ছাত্রী হিন্দু। উক্ত তারিখে বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিল ৭৫৩ জন ছাত্রী । হিন্দু ছাত্রী প্রায় ১০০ জনের মত উপস্থিত ছিলো , কিন্তু প্রসাদ গ্রহণ করেছিল সর্বোচ্চ ৪৫ জন । কোনো মুসলিম ছাত্রীকে প্রসাদ বিতরণস্থলের ধারেকাছেও আসতে দেওয়া হয় নি । বিতরণ শুরুকালীন আমি মিনিটখানিক বিতরণস্থলে ছিলাম এবং শুধুমাত্র হিন্দুদের প্রসাদ গ্রহণ করতে বলেছি । কোনো হিন্দু ছাত্রী প্রসাদ গ্রহণকালীন “হরে কৃষ্ণ, হরে রাম” জাতীয় কোনো মন্ত্র জপ করে নি । গত ১৬ জুলাই মঙ্গলবার চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা স্বয়ং এসে প্রতি ক্লাসে গিয়ে ছাত্রীদের সাথে কথা বলেন এবং হিন্দু ছাত্রীদের সাথে আলাদাভাবে কথা বলেন ।উঁনার তদন্তে উল্লিখিত ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হয় । এ ব্যাপারে আমার স্টেটমেন্টসহ সকল শিক্ষকের নাম, পদবী, মোবাইল নং ও স্বাক্ষরযুক্ত কপি দিতে হয় ।যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে, তা ভালো করে লক্ষ করলে দেখা যাবে, এখানে কোনো হাই স্কুলের ভিডিও নেই । হাই স্কুলের ক্ষেত্রে তারা সব স্থিরচিত্র বা ফটো দিয়েছে । কারণ হাই স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী মানসিকভাবে অনেক পরিপক্ক এবং তাদের ধর্মীয় জ্ঞানও যথেষ্ট ভালো । হাই স্কুলের কোনো হিন্দু শিক্ষার্থীকে যেমন বিসমিল্লাহ্ বলে কিছু খেতে বললে সে খাবে না, তেমনি কোনো মুসলিম শিক্ষার্থীকে “হরে কৃষ্ণ, হরে রাম” বলে খেতে বললে সে খানা ফেলে দৌড়াবে , এটা আমার বিশ্বাস । এখানে ভিডিও আছে শুধুমাত্র প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবুঝ শিক্ষার্থীর , যারা কৃষ্ণ বা রাম নাম জপ করছে । তাও তারা সবাই হিন্দু না গুটিকয়েক মুসলিম আছে, আমি সে ব্যাপারে অনিশ্চিত । যদি সবাই হিন্দু হয় তাহলে এ ব্যাপারে মুসলমানের মাথা ঘামানোর দরকার আছে বলে মনে হয় না । ভিডিও দেখে সনাক্ত করতে হবে তাদের মধ্যে মুসলিম আছে কিনা এবং তা অবশ্যই ভিডিও অনুযায়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে গিয়ে জানতে হবে । ছবিতে বাকলিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এক ছাত্রকে টুপি মাথায় খেতে দেখলাম তবে আমি নিশ্চিত সে হরে কৃষ্ণ কিংবা হরে রাম জপ করে খায় নি । খানার বিনিময়ে ধর্মীয় মন্ত্র জপ করানো মানে তোমার দান নি:স্বার্থ নয়, তাই সেটা মানব সেবা হবে না । যতটুকু জানি আজকে ইসকন সংবাদ সম্মেলন করে তাদের কথা জানাবে । গতকাল ডিবি ও এনএসআই এর হেডকোয়ার্টার থেকে ফোন করেছিল, তাঁদেরকে একই উত্তর দিয়েছি । আবার বিদ্যালয়ে হিউম্যান রাইটস এবং হেফাজতে ইসলামের লোক এসেছিল । শিক্ষকরা তাদেরকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে যে, এখানে শুধু হিন্দু ছাত্রীদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়েছে । হিন্দু মেয়েরা স্কার্ফ পরিধান করে কিনা হেফাজত প্রশ্ন করেছিল । উত্তরে শিক্ষকরা বললো, এখানে সবার স্কার্ফ পরিধান করা বাধ্যতামূলক । আজ আবার এসবি(SB ) হতে একজন সাব-ইন্সপেক্টর এসে আমাদের স্টেটমেন্ট নিয়ে গেছে । ১৬, ১৭ ও ১৮ জুলাই প্রচন্ড চাপের মধ্যে আছি । তার উপর বিভিন্ন পরিচিত জনের টেলিফোনে ও মেসেন্জারে বিভিন্ন জিজ্ঞাস্য , তাই পোস্টটি দিলাম । সবচেয়ে বড় কথা, আমি এতক্ষণ যা লিখেছি তা শুধু বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের জন্য । এ বিদ্যালয় গত তিন বছর জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহে একটানা তিনবার থানার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচিত হয়েছে । এতদ্ অঞ্চলে নারী শিক্ষার প্রাচীনতম বিদ্যাপীঠ এ বিদ্যালয় । এখানে অত্যধিক সুশৃঙ্খল পরিবেশে পাঠদান করা হয় । তাই এ বিদ্যালয়টি সবার কাছে আদর্শ বিদ্যালয় নামেই পরিচিত । একসময় খাজা মাঈনউদ্দিন (র:), শাহজালাল(র:), শাহ পরান(র:) , বায়েজিদ বোস্তামি(র:), বদর আউলিয়া, মোহছেন আউলিয়া, আমানত শাহ এদের মতো বড় বুজুর্গ অলি ছিলো ,তখন মুসলমান ছিলো অতি নগন্য । আর এখন সবাই মুসলমান কিন্তু পীর, দরবেশ, অলি , কামেল পাওয়া যাচ্ছে না, থাকলেও অতি নগন্য ।ধরি, সারা বিশ্বের সবাই মুসলমান হয়ে গেলো , কিন্তু একজনও প্রকৃত ঈমানদার নেই ,তাহলে নিশ্চিত কেয়ামত সংঘটিত হবে । তাই এখন মুসলমান হিসাব না করে, ঈমানদার হিসাব করা ভালো । কত মুসলমান রমজানে দিনের বেলায় হিন্দু হোটেলে খায় তার খবর কে রাখে । শতভাগ ঈমান নিয়ে বাঁচতে চাইলে, অন্যদিকে নজর দেওয়ার সময় থাকে না, সেটা একমাত্র যারা সৎ ও ঈমানদার তাঁরা ভালো বুঝে। তাই তাঁরা দুনিয়া হতে পালানোর চেষ্টা করে ।মো. আশরাফুল আলম
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক
বাকলিয়া আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়
চকবাজার, চট্টগ্রাম ।

লিংকের কপি                                                                                                     https://www.facebook.com/ashraful.alam.50951?fref=nf&__tn__=%2Cdm-R-R&eid=ARBIvdv8IYksB91t_GUw2X9JzpJZLM8yKh1Ho8y1J5vAXa6BwLvgwUyF-RbnyPwVIiDWRh8qUzGudjS5