Home » bangladesh » অবিভক্ত বাংলার সবচেয়ে বড় শহরের ময়মনসিংহ জংশন || দেড়শতবর্ষীয় রেলওয়ে স্টেশন

অবিভক্ত বাংলার সবচেয়ে বড় শহরের ময়মনসিংহ জংশন || দেড়শতবর্ষীয় রেলওয়ে স্টেশন

বৃটিশ শাসনামলে ১৮৭১ সালে ব্যবসায়িক উদ্দেশ্যে কলকাতা থেকে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত রেলপথ তৈরি হয়। আর সে সময়ের গুরুত্বপূর্ণ নদীবন্দর ছিলো নারায়ণগঞ্জ নদীবন্দর। তখন যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিক করতে মালামাল পরিবহনের জন্য নারায়ণগঞ্জ থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত স্টিমার চালু করা হয়।
আর ১৮৮৫/১৮৮৬ সালে ময়মনসিংহের অংশে মূলত পাট রপ্তানী ও কলকাতার সাথে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত ১৪৪ কিলোমিটার রেলপথ চালু করা হয়। তৎকালীন ঢাকা স্টেট রেলওয়ে কম্পানি দ্বারা এই লাইনটি পরে বাহাদুরাবাদ ও জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

১৮৯৮-৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত তৎকালিন ময়মনসিংহ হতে জগন্নাথগঞ্জ অর্থাৎ যমুনা নদীর পার পর্যন্ত প্রায় ৮৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথ চালু হয়েছিল। তখন এটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ছিল এবং মিটারগেজ রেলপথ হিসেবে এই সেকশনটি চালু হয়েছিল।

পরবর্তীতে ১৯২০ সালে এটি রাষ্ট্রীয় করণ করা হয়। মূলত রেলওয়ে ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ থেকে জগন্নাথগঞ্জ ঘাট পর্যন্ত ইস্টার্ন বেঙ্গল রেলওয়ে দ্বারা পরিচালিত ৮৮ কিলোমিটার বেসরকারি রেললাইন রাষ্ট্রীয়করণ করা হয়।

নারায়ণগঞ্জ থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট লাইন শুরু ও শেষ প্রান্ত যথাক্রমে শীতলক্ষ্যা নদী ও যমুনা নদীর ঘাটে অবস্থিত। নারায়ণগঞ্জ স্টেশন থেকে স্টিমার দ্বারা গোয়ালন্দ ঘাট পৌঁছে গোয়ালন্দ-শিলাইদহ রেলপথে কলকাতা পৌছানো যেত। যা ময়মনসিংহ থেকে কলকাতা যাওয়ার একমাত্র পথ ছিল গোয়ালন্দ-শিলাইদহ রেলপথ।

এ অংশের নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর তীর পর্যন্ত অনেক গুলো ঘাট রেললাইন ছিলো। তাদের মধ্যে আদমজী রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও গেন্ডারিয়া থেকে বুড়িগঙ্গা নদী পর্যন্ত ঘাট লাইন ছিলো যা কালের বিবর্তনে এখন বিলুপ্ত। এগুলো এখন ইতিহাসের পাতায় সোভা পাচ্ছে।

এদিকে বাহাদুরাবাদ ঘাটের সাথে যমুনা নদীর ওপারে রেলফেরী দ্বারা তিস্তামুখ ঘাট পর্যন্ত সংযুক্ত ছিলো সান্তাহার-কাউনিয়া লাইন দ্বারা। কিন্ত বঙ্গবন্ধু সেতু হওয়ার পর সেই নদীর উপর রেলফেরী বন্ধ হয়ে যায়।

নির্মাণকাল
তৎকালীন সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাহাদুরাবাদ ঘাট রেলপথ চারধাপে নির্মাণ কাজ করা হয়েছিল। যারা প্রথম ধাপ ছিল ঢাকার ফুলবাড়িয়া থেকে নারায়ণগঞ্জ পর্যন্ত। নির্মাণ সাল ছিল ১৮৮৫ সালের ৪ জানুয়ারি। পর্যাক্রমিকভাবে নীচে নির্মাণ সাল উল্লেখ করা হল-

১ম ধাপ = ঢাকা(ফুলবাড়িয়া)-নারায়ণগঞ্জ নির্মাণ হয় ১৮৮৫ সালের ৪ জানুয়ারি।

২য় ধাপ = ঢাকা-ময়মনসিংহ পর্যন্ত যা নির্মাণ হয় ১৮৮৫ সালের মধ্যভাগে।

৩য় ধাপ = ময়মনসিংহ-জামালপুর পর্যন্ত নির্মাণ হয় ১৮৯৪ সালের দিকে।

৪র্থ ধাপ = জামালপুর-বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত নির্মাণ হয় ১৯১২ সালে।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২০এই লেখাটি 393 বার পড়া হয়েছে