Home » bangladesh » কলকাতা “নাখোদা মসজিদ” স্থাপত্যের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি (ভিডিও সহ)

কলকাতা “নাখোদা মসজিদ” স্থাপত্যের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি (ভিডিও সহ)

দিনটি ছিল শনিবার আর তারিখ ছিল ২০১৯ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর।
আমরা আজকের পর্বে কলকাতার বড় বাজার এলাকা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরবো। এবং বড় বাজার এর বড় মসজিদ অর্থাৎ “নাখোদা মসজিদ” নিয়ে বিস্তারিত দেখাবো।

তার জন্য কোলকাতা ভ্রমণের ২য় দিনের সকাল বেলা প্রথমেই আমরা নাস্তা শেষ করে সেখানের ঐহিত্যবাহী মাটির পাত্রে মসলা চা স্বাদ নিতে এই দোকানে চলে আসলাম।

চায়ের স্বাদ শেষ করে আমরা একটা টেক্সিতে করে চলে যাব বড় বাজার। সেখানে আমাদের বেশ কিছু কেনা কাটা করবো।

ভিডিওতে দেখেন এইযে আমরা নেমে যাচ্ছি। এটাই হলো বড় বাজার বড় মসজিত। স্থাপত্যের এক বিস্ময়কর সৃষ্টি কলকাতার “নাখোদা মসজিদ”।

ব্রিটিশ ভারতে ১৯২৬ সালে তৈরি নাখোদা মসজিদ স্থাপত্যের দিক থেকে বিস্ময়কর সৃষ্টি। তৎকালিন সময়ে মসজিদটি নির্মাণে খরচ হয়েছিল ১৫ লাখের বেশি রুপি। সাদা মার্বেলের দেয়াল, বেলজিয়াম কাঁচ, বিশাল নামাজ পড়ার জায়গা, দাঁড়িয়ে থাকা পুরোনো কাঠের ঘড়ি ভাঁজে ভাঁজে ইতিহাসের গন্ধ। যা বর্তমান বাজারমূল্যে নিঃসন্দেহে কয়েকেশ’ কোটি টাকা।

কোলকাতায় বসবাসরত বাংলা ভাষাভাষী মুসলিমদের এটি সবচেয়ে বড় আর প্রাচীন মসজিদ। কলকাতার মুসলমানদের প্রধান প্রার্থনালয় ‘নাখোদা মসজিদ’। এটি মধ্য কলকাতার বড়বাজারের চিৎপুর অঞ্চলে অবস্থিত। অনেক দূর থেকেই লাল রঙের এ দৃষ্টি নন্দন মসজিদটি যে কোনো মানুষের নজরে পড়বে। মসজিদটি মহাত্মা গান্ধী রোড থেকে রবীন্দ্র সরণি ধরে দক্ষিণমুখী ৫ মিনিটের পথে জাকারিয়া স্ট্রিটের সংযোগস্থলে অবস্থিত।

আগ্রায় অবস্থিত প্রভাবশালী মুঘলসম্রাট আকবরের সমাধির আদলে ইন্দো-সেরা সৈনিক শৈলীতে লাল-বেলেপাথরে বিখ্যাত এ মসজিদটি নির্মিত হয়। ‘কাচ্ছি মেমন জামাত’ এর কচ্ছের নামের একটি ক্ষুদ্র সুন্নি মুসলিম সম্প্রদায় মসজিদটি তৈরি করেছিলেন। আর মসজিদটির প্রবেশে পথ বানানো হয় আগ্রার ফতেহপুর সিক্রির বুলন্দ দরজার আদলে।

মসজিদ নির্মাণে অর্থ দান করেন সেই সম্প্রদায়ের নেতা আব্দুর রহিম ওসমান নামের একজন ব্যক্তি। যিনি পেশায় সমুদ্র বণিক ছিলেন। ফারসি শব্দ নাখোদার অর্থ নাবিক। তিনি। জাহাজে জাহাজে নাবিকের মতো ঘুরতেন। তার সঙ্গে মিল রেখেই মসজিদটির নামকরণ করা হয় নাখোদা মসজিদ। এটিই বর্তমান কলকাতার সবচেয়ে বড় মসজিদ। মসজিদের চাতালটি অনেক বড় এবং দ্বিতল।

মসজিদের ইমাম এবং খতিব জানান, মসজিদটিতে এক সঙ্গে ১৫ হাজার মানুষ নামাজ আদায় করতে পারেন। বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ঈদের দিন এ মসজিদ প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে লাখের বেশি মানুষ এখানেই জামাত আদায় করেন। বাংলাদেশ থেকেও বহু মানুষ ঈদের দিন জামাত আদায় করতে এই মসজিদে এসে থাকেন।
ঐহিত্যবাহী এই মসজিদে শুক্রবারেও দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা শুধু নামাজ পড়তেই নয়, মসজিদটি দেখতেও প্রতিনিয়ত আসেন।

ব্রিটিশ ভারতে নির্মিত মসজিদটিতে একটি গম্বুজ, দু’টি বড়ো মিনার ও ২৫টি ছোট মিনার রয়েছে। যেখানে বড় মিনার দু’টির উচ্চতা ১৫১ ফুট আর ছোট মিনারগুলোর উচ্চতা ১০০ ফুট থেকে ১১৭ ফুটের মতো। দুর্লভ গ্রানাইট পাথর দিয়ে চাতাল দু’টি নির্মিত হয়েছে । পাথরগুলো বিহারের তোলেপুর থেকে সংগ্রহ করা হয়। নানা কারুকার্যে ভর্তি মসজিদটির ভেতরে রয়েছে চোখ ধাঁধানো অলঙ্করণ ও সৃজনশীলতা।

মসজিদকে কেন্দ্র করে আশেপাশে দুর্লভ কিছু সুগন্ধি আতর পাওয়া যায়। হরিণের কস্তুরীর থেকে তৈরি হওয়া আতরও পাওয়া যায়। এছাড়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং তুরস্কের নকশী টুপিও পাওয়া যায় এখানে। প্রত্যেক বছর ঈদ বা রমজানকে কেন্দ্র করে নতুনভাবে সেজে ওঠে এই নাখোদা মসজিদ।
কিন্তু করোনা কালিন সময়ে এটার খুব একটা মানুষের পদচারণা নেই।

বড় বাজার, ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কলকাতা জেলার উত্তর-মধ্য কলকাতার একটি পার্শ্ববর্তী অঞ্চল। বাজারটি প্রায় ৫০০ বিঘা জমি ছড়িয়ে গিয়েছিল বড় বাজার সুতা ও কাপড়ের জন্য কলকাতার বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং ভারতের বৃহত্তম পাইকারি বাজারগুলির একটিতে প্রসারিত হয়েছিল। তার পাশেই ৪০০ বিঘা আবাসিক এলাকায় আচ্ছাদিত ছিল।

বড় বাজার একটি বাংলা শব্দ যার অর্থ বৃহৎ বা অনেক বড়। তবে, আরও একটি তত্ত্ব আছে। আশেপাশের শিবের জনপ্রিয় নাম ‘বুড়ো’, তার নামে এর নামকরণ করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। পূর্ববর্তী স্থানীয় বণিকদের ক্ষমতাচ্যুতকারী রাজস্থানভাষী বণিকেরা ‘বারো’ বা বাংলায় যাকে বড় বলে ডাকা হয় এটিকে বানিয়েছিলেন।

আজ এই বড় বাজার নিয়েই আমরা আমাদের ভিডিওটি তৈরি করেছি। আপনারা পুরো ভিডিওটি দেখবেন বলে আশা করি।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুন ৩০, ২০২০এই লেখাটি 780 বার পড়া হয়েছে