Home » bangladesh » কেমন ছিল বনানী পুরাতন রেল স্টেশনের চিত্র (ভিডিও সহ)

কেমন ছিল বনানী পুরাতন রেল স্টেশনের চিত্র (ভিডিও সহ)

কত বিচিত্র ধরণের পেশাই না আমাদের চোখে পড়ে। তেমনি একজনের সাথে পরিচয় হলো। তিনি বনানী রেল স্টেশনে জাম্বুরা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তিনি প্রতিদিন সকালে এসে বিকেলে চলে যায় তার বাড়ীতে। তার সাথে বিস্তারিত কথা বলার চেষ্টা করলাম।

করোনার আগে স্যুট করা এই ভিডিওটি ঢাকার বনানী রেল স্টেশনের। সেদিন সকাল বেলা এই ভিডিওটি ধারণ করেছিলাম। পর্বটি শুরুর আগে আমরা জাম্বুরার কিছু গুণাগুণ জেনে নিব।

ভিটামিন ‘সি’-সমৃদ্ধ দেশি ফল জাম্বুরা। বিভিন্ন জাতের জাম্বুরা আমরা দেখে থাকি। কোনো জাতের ভেতর লাল টকটকে, কোনোটির ভেতর আবার সাদা। কোনোটির স্বাদ মিষ্টি আবার কোনোটির স্বাদ টক। তবে সব কিছুর উর্দ্ধে এর খাদ্য উপাদান যাদের গ্যাসিডিটি বা গ্যাস আছে তাদের জন্য বেশ উপকারী। তাই তারা এটি খুব বেশি বেশি খেতে পারেন।

পুষ্টিগুণের দিকে চিন্তা করলে প্রতি ১০০ গ্রাম জাম্বুরার মধ্যে ক্যালোরি আছে ৩৭ কিলো ক্যালোরি, শর্করা ৯.২ গ্রাম, মুক্ত চিনি থাকে ৭ গ্রাম, সামান্য খাদ্যআঁশ, প্রোটিন ও ফ্যাট বর্তমান।
আর বিটা ক্যারোটিনের পরিমাণ ১২০ মা.গ্রা, যথেষ্ঠ ভিটামিন আছে। যার পরিমাণ ৬০ গ্রাম, এতে কিছুটা ভিটামিন ‘বি’ও থাকে।
ক্যালরি কম থাকায় ডায়াবেটিস ও স্থুলবয়দের জন্য খুবই উপকারী দেশী ফল এই জাম্বুরা।

আমরা আর সেদিকে যাবো না। আমরা আজ এই ব্যক্তির জাম্বুরা বিক্রি নিয়ে কথা বলব। তার নাম হলো তফাজ্জল। বাড়ী ময়মনসিংহ জেলার গফরগাও উপজেলাতে। পরিবার পরিজন গ্রামের বাড়ীতেই থাকে। তিনি মাঝে মাঝে কালাচাদপুর ভাড়া বাড়ীতে রাত্রি যাপন করে থাকেন।

প্রতিদিন তিনি গ্রামের বাজার থেকে এই জাম্বুরা কিনে এনে এখানে তা বিক্রি করে থাকেন। যদি ভালো বিক্রি হয় তবে প্রতিদিন অন্তত ৭০০-৯০০ টাকার মত লাভ হয় । তবে সব সময় ভাল বিক্রি হয় না। তার সাথে কথা বলে এই বিষয়ে জানার চেষ্টা করলাম। প্রতিদিন গড়ে যা বিক্রি হয় তা ভিডিওতে শুনে নিলাম। আপনার পুরো ভিডিওটা দেখলে বুঝতে পারবেন।

এক টানা কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। খুবই মনোযোগী ভাব নিয়ে আছেন তিনি। যেনো কারো সাথে কথা বলার সময় নেই।

তিনি তার চাকু শান দিচ্ছেন। কারণে আস্ত জাম্বুরা কেটে তার কোষ গুলো আলাদা আলাদা করতে হবে তাই। বেশ কিছু সময় নিয়ে তার এই কাজ গুলো বসে বসে দেখলাম। আর বিভিন্ন বিষয়ে জানার চেষ্টা করলাম। ভিডিওতে তার কথাগুলো শুনলে আপনারা বুঝতে পারবেন।

তিনি যে এই বিষয়ে খুব পারদর্শি তা তার কাটার ধরণ দেখেই বুঝা যায়। বহুদিন তাকে এখানে দেখেছি। কিন্তু ইদানিং আর তার দেখা পাওয়া যায় না। কারণ হিসেবে হয়তো বা করোনার মহামারিতে মানুষ আর বাহিরের কিছু কিনে খেতে ইচ্ছা পোষণ করে না। তাই হয়ত বিক্রি বন্ধ। তাই তার আর দেখা নেই এখানে।

এই কদিন আগেও সেখানে গিয়ে ছিলাম। বনানী রেল স্টেশনটা খা খা করছে। কোন যাত্রী অথবা ফেরিওয়ালাদের হাক ডাক আর নেই। শুণ্যতায় ভরা এই রেল স্টেশন দেখে মনটা খরাপ হয়ে গেলো।
কবে আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে কে জানে। পুরো বিশ্বটাই তো স্থবির। কি হবে অদুর ভবিষ্যতে এক মাত্র আল্লাহ তাআলাই জানেন।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: মঙ্গলবার, জুলাই ২১, ২০২০এই লেখাটি 192 বার পড়া হয়েছে