Home » bangladesh » গারো পাহাড়ের সীমান্তে অগ্নি পরীক্ষায় আছেন যারা(ভিডিও)

গারো পাহাড়ের সীমান্তে অগ্নি পরীক্ষায় আছেন যারা(ভিডিও)

গারো পাহাড় বাংলাদেশের অংশের অপরুপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে ইদানিং বহু মানুষ যাচ্ছেন শেরপুরের সীমান্ত এলাকাতে। যদিও লকডাউন উত্তর সেটা কমে গেছে। কিন্তু তার পরও লকডাউন শিথিল করায় থেমে নেই ভ্রমণ পিপাসুদের আনাগোনা।

গারো পাহাড়ের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পাহাড়ি রাস্তা ইতিমধ্যে বেশ ভালো ভাবেই সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে পাহাড়ে যাতায়াত ব্যবস্থা আরো নির্বিগ্ন হয়েছে।
একটা বিষয় ভেবেছেন কি যে, আপনি গারো পাহাড়ে যাবেন সেখানে কিন্তু বিপদে পরলে কোন পুলিশি সহায়তা পাবেন না। তাই সেখানে অবস্থানরত সীমান্তের অতন্ত্র প্রহরী যারা আছেন আমাদের বিজিবি ভাইয়েরা তাদের সহযোগীতা ছাড়া কোন উপায় নেই। তাই গারো পাহাড়ের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকাতে কোথায় কোথায় সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরীরা আছে তা ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে একটু দেখানোর চেষ্টা করবো। আজ আমরা প্রথমেই রামচন্দ্রকুড়া সীমান্ত ফাঁড়ীর সামনে থেকে যাত্রা শুরু করলাম।

সেখান থেকে নালিতাবাড়ীর নাকুগাও স্থল বন্দরের পাশে চার আলি বাজার আছে এই বাজারে চলে আসলাম। এই বাজার থেকে সীমান্ত রাস্তা ধরে অল্প একটু পশ্চিম দিকে গেলেই এখানে আরও একটি সীমান্ত ফাঁড়ী পাবেন। যার নাম হাতিপাগার সীমান্ত ফাঁড়ী। আমরা কিন্তু বলেছি যে, এখানে যদি কখনো বিপদে পড়েন তথন কিন্তু আমাদের বিজিবি ভাইদের ছাড়া আইনগত সাহায্য পাওয়ার অন্য কোন ব্যবস্থা নেই।
তাই শেষ ভরসা বলতে এই বিজিবি সদস্যরাই।

আমরা ভিডিওতে এ সব কিছু দেখিয়ে যাচ্ছি। আশা করি পুরো ভিডি্টও দেখবেন। আমরা এখান থেকে আরো সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। দু পাশে ছোট ছোট পাহাড়। পাহাড়ের উপরে আদিবাসী বাঙ্গালীদের বসতি। আগে যদিও শুধু আদিবাসীদের বসতি লক্ষ করা যেত এই সব পাহাড়ি এলাকায়। এখন কিন্তু আরো অনেক বাঙ্গালীরা সেখানে বাড়ী নির্মাণ করেছেন।

সীমান্ত পথ ধরে এগিয়ে চলেছি। অনেকেই টিলার উপর পোলট্রি খামার করেছে। আর একটা বিষয় বলে রাখি, এখানে সামাজিক বনায়নের কারণে কিন্তু পাহাড়ের যে পুরাতন গাছ গাছড়া ছিল তা একেবারেই নির্মূল করা হয়েছে। তাই পুরাতন কোন কিছু আর এখানে পাওয়া যাবে না।

এখানে সীমান্ত রাস্তা আছে। খুবই চমৎকার রাস্তা। রাস্তার দিয়ে গেলে পাশে থাকা পাহাড়ি আবহ আপনাকে শিহরিত করবেই।
আমরা আরো কিছুদুর এগিয়ে গেলেই বারমারী ফাতেমা রাণীর পবিত্র তীর্থস্থান এবং সেখানে মিশন হাসপাতাল দেখতে পাবো।
এই বারমারী ফাতেমা রাণীর পবিত্র তীর্থস্থানে কিন্তু প্রতিবছর অক্টোবর মাসে খ্রীষ্ট ধর্মীয়দের বড় মাহফিল অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। ঢাকা সহ বাংলাদেশের বহুপ্রান্ত থেকে এই মাহফিলে যোগ দিয়ে থাকে খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বীরা। আজ কিন্তু আমরা সেখানে যাবো না। এই বারো মাটি মিশন নিয়ে আমরা অন্য পর্বে বিস্তারিত দেখাবো।

এই বারমারী ফাতেমা রাণীর পবিত্র তীর্থস্থান এর পাশেই আছে চৌকিদারটিলা সীমান্ত ফাঁড়ী। এই চৌকিদারটিলা সীমান্ত ফাঁড়ীর পাশে নতুন আরো একটি মিশন স্কুল নির্মিত হচ্ছে। মিশন স্কুলের পাশ দিয়ে সীমান্ত রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছি। এই মিশন স্কুল থেকে অল্প একটু এগিয়ে যাবো আমরা।

মিশন স্কুল আর এই চৌকিদারটিলা সীমান্ত ফাঁড়ী অতিক্রম করে আমরা একটি ব্রিজ পাবো সেটা থেকে আরো কিছুদুর এগিয়ে গেলাম। উচু নিচু টিলা আর পাহাড়ি পথ পেরিয়ে আমরা মধুটিলা ইকো পার্ক অতিক্রম করলাম। এই ইকো পার্কে না গিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। দুপাশে শাল গজাড়ি বাগানের এরিয়া অতিক্রম করে আমরা কিছু সমতল ভুমি পাব। আপনারা যখন ভিডিওটি দেখবেন তখন এ বিষয়ে বিস্তারিত বুঝতে পারবেন।

এই সমতল ভুমিতেই যে সীমান্ত ফাঁড়ী আছে তার নাম হলো হলদী গ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ী। ঐযে সামনে দেখা যাচ্ছে এটাই হলো হলেদী গ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ী। নালিতাবাড়ী থেকে ঝিনাইগাতি যাওয়ার পথে রাস্তার বাম পাশে এই সীমান্ত ফাঁড়ী টির অবস্থান। এটির অবস্থান নালিতাবাড়ী উপজেলাতেই।

আমরা হলদী গ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ী পার হয়ে আরো সামনে যাবো। এই সীমান্ত রাস্তা ধরেই এগিয়ে যেতে থাকবো আমরা। কিছুদুর যাওয়ার পরে আমরা হলদীগ্রাম ব্রিজ দেখতে পাব। এই ব্রিজটি কিন্তু বেশ বড়। ভারতের মেঘালয় রাজ্য থেকে নেমে এসে বাংলাদেশের ব্রক্ষপুত্র নদীতে এসে মিলিত হয়েছে এই নদীটি। আপনারা মনোযোগ দিয়ে ভিডিওটি দেখলে হলদী গ্রাম ব্রিজটি দেখে থাকবেন।

এই হলদীগ্রামে নদীর উপর ব্রিজ থেকে কিছু দুর এগিয়ে গেলাম আমরা। কিছুটা সমতল ভুমিতে রাস্তা। এই এলাকা কিন্তু শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতীতে অবস্থান। কিছুদুর যাওয়ার পরই আমরা রাংটিয়া গ্রামের মোড় পাব।
এখানে একটি পাকা করা সাইনবোর্ট আছে । যেভাবে লেখা বাম দিকে গেলে আমরা নকশী সীমান্ত ফাঁড়ী পাব আর ডানে হলো হলদী গ্রাম সীমান্ত ফাঁড়ী। যা আমরা রেখে আসলাম কয়েক কিলোমিটার আগে।

আমরা রাংটিয়া গ্রামের মোড় থেকে গজনি অবকাশ কেন্দ্রের কাছে যেতে থাকলাম। কিছুদুর যাওয়ার পরই নকশী সীমান্ত ফাঁড়ী দেখতে পাব। গাজনী অবকাশ কেন্দ্রের দিকে যাওয়ার সময় রাস্তার ডান পাশে এই নকশি সীমান্ত ফাঁড়ীর অবস্থান।

নকশী সীমান্ত ফাঁড়ী পার হয়ে আমরা গজনী অবকাশ কেন্দ্রের ভিতর হয়ে সরাসরি শ্রীবর্দি এরিয়াতে চলে গেলাম। শ্রীবর্দীর শাল গজারি আর উচু নিচু টিলা অতিক্রম করে কর্ণঝড়ের দিকে কিছুদুর এগিয়ে দেখবেন এখানে কর্ণঝড় বিজিবি সীমান্ত ফাঁড়ী টির অবস্থান ।

ভিডিওতে আমরা এই ব্রিজটি পর্যন্ত গিয়েই শেষ করছি তাই আর বেশি কিছু এখানে লেখা হয়নি। পরের পর্বে গারো পাহাড়ের বাকি সীমান্ত ফাঁড়ী গুলো তুলে ধরবো।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: শনিবার, জুন ২৭, ২০২০এই লেখাটি 277 বার পড়া হয়েছে