Home ভ্রমন বার্তা চীনের রেইনবো মাউন্টেন: যেখানে গিয়ে শিল্পীরা থমকে যান

চীনের রেইনবো মাউন্টেন: যেখানে গিয়ে শিল্পীরা থমকে যান

157
0

চীনের রেইনবো মাউন্টেন। এত সুন্দর পর্বতমালা যে পাবলো পিকাসো ও মাইকেল এঞ্জেলোর মতো বড় চিত্রশিল্পীই গিয়ে থমকে গিয়েছিলেন। এত সুন্দর হয় কিভাবে প্রকৃতি? এর জবাবে পাবলো পিকাসো তার আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘সুন্দরের কাছে গিয়ে নীরব হয়ে যেতে হলে চলে যাও চিনের রেনবো মাউন্টেন। আমি গিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।’

Image may contain: sky, mountain, nature and outdoor

মাও সে তুং চীনে বিপ্লব করার আগে সামরিক প্রবন্ধগুলো যখন লিখেছিলেন তখন ক্লান্তি ভুলতে ১৭বার এখানে গিয়েছিলেন। শোনা যায় ভারতের বিপ্লবী নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুও গিয়েছিলেন। শুধু চিত্রশিল্পীরা ও বিখ্যাতরাই নয় সাধারণ মানুষও অপার সৌন্দর্যের পরতে পরতে লুকিয়ে থাকা রহস্য খুঁজে বের করে মোহিত হয়ে যান। সে রকমই বিস্ময়কর সৌন্দর্য নিয়ে উত্তর চীনের গানসু প্রদেশের লিনজে জেলায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান করছে রেইনবো মাউন্টেন বা রামধনু পর্বত।

Image may contain: mountain, sky, cloud, nature and outdoor

ইন্টারনেটে প্রথম যখন এই পর্বতের ছবি বিশ্বের মানুষ দেখেন, অধিকাংশ মানুষ মনে করেছিলেন ফটোশপের কারসাজি। কারণ পাহাড় এত রঙচঙে হয় নাকি! কিন্তু চীনের পর্যটন দপ্তর যখন এই পাহাড়ের কথা তাদের প্রচার মাধ্যমে আনল, তখন বিশ্বের মানুষ বিশ্বাস করেছিল, রামধনুরঙা পর্বত তাহলে সত্যিই আছে।
বিশ্বের বিস্ময় এই রেনবো মাউন্টেনের অপর নাম ঝাংগিয়ে ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্ম। এটি একটি জিওগ্রাফিক্যাল পার্কের অংশ। আগে পার্কটির নাম ছিল ঝাংগিয়ে ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্ম জিওগ্রাফিক্যাল পার্ক। বর্তমানে এর নাম গানসু ঝাংগিয়ে ন্যাশনাল পার্ক। এই পার্কে প্রবেশ করলেই পর্যটকদের চোখ ধাঁধিয়ে যায়!

Image may contain: mountain, outdoor and nature

বেগুনি-নীল-আকাশি-সবুজ-হলুদ-কমলা-লাল রঙের বাহার দেখে। না, পার্কে রঙবেরঙের ফুল ফোটেনি। ন্যাড়া পাহাড়ের গায়ে প্রকৃতিদেবী নিপুণ হাতে তাঁর সাতরঙা তুলি বুলিয়েছেন।

প্রায় ২ কোটি ৪ লাখ বছর ধরে টেকটনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই রেইনবো মাউন্টেন তৈরি হয়েছিল। সংঘর্ষের ফলে ভূগর্ভ থেকে বেরিয়ে এসেছিল শিলাস্তর। প্রচুর পরিমাণে রঙিন সিলিকা, লোহা ও বিভিন্ন খনিজ পদার্থ ছিল সেই শিলাস্তরে।

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে ঝড়, বৃষ্টি, তুষারপাত, বায়ুপ্রবাহ, সূর্যের তাপ, জলবায়ু পরিবর্তন ও নানা রাসায়নিক ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার ফলে গড়ে উঠেছে এক রঙিন ও প্রাকৃতিক আর্ট গ্যালারি। যা আজকে ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্ম নামে পরিচিত। ২০১০ সালে ইউনেস্কো প্রকৃতির এই আশ্চর্য সৃষ্টিকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করে। তবে ভূ-বিজ্ঞানীদের দাবি, এই রেইনবো মাউন্টেনের প্রাথমিক রঙ ছিল টকটকে লাল। রঙিন সিলিকা আর ভূগর্ভস্থ লোহা আর তামার বিক্রিয়ার ফলেই এসেছিল এই লাল রঙ। পরবর্তীকালে বিভিন্ন খনিজ পদার্থের মধ্যে বিক্রিয়া ও পরিবেশের প্রভাবে সেই লাল রঙের ওপরে পড়েছে বিভিন্ন রঙের প্রলেপ।

Image may contain: cloud, sky, mountain, nature and outdoor

আজ এই রেইনবো মাউন্টেন উত্তর-পশ্চিম চিনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে ছুটে আসেন পর্যটকেরা। শুধু রঙের বৈচিত্র নয়, পর্যটকদের আকৃষ্ট করে বিভিন্ন আকৃতির পাথরও। তবে এখান থেকে রঙিন পাথর নিয়ে যাওয়া আইনত দণ্ডনীয়। এখানকার আরেকটি দর্শনীয় বস্তু হলো বিশালাকৃতি প্রাকৃতিক পিলারগুলি।

আরেকটি জিনিস পর্যটকদের মনে বিস্ময় জাগায়। এই ৪০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় ঘাস ছাড়া অন্য কোনো উদ্ভিদ বা প্রাণীর অস্তিত্ব নেই। এর একটা কারণ হতে পারে এখানকার অত্যন্ত রুক্ষ ও শুষ্ক আবহাওয়া।
ড্যানজিয়া ল্যান্ডফর্মের পর্যবেক্ষণ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে নীল আকাশের নিচে রামধনু রঙের পাহাড়ি ঢেউ ছাড়া আর কিছুই দেখা এক বিরল বিস্ময়কর অভিজ্ঞতা। আজকাল প্রচুর বাঙালি চীন বেড়াতে যান। যাঁরা ভাবছেন রেনবো মাউন্টেন যাবেন তাঁরা বেজিং থেকে গানসু প্রদেশের রাজধানী ল্যানঝাউ ট্রেনে বা বিমানে পৌঁছে, সেখান থেকে গাড়িতে রেইনবো মাউন্টেন যেতে পারেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here