Home পার্বত্য বার্তা দেবতাখুম, রোয়াংছড়ি, বান্দরবান ভ্রমণ

দেবতাখুম, রোয়াংছড়ি, বান্দরবান ভ্রমণ

142
0

নেটওয়ার্কের সম্পূর্ণ বাহিরে, নির্জন ও শব্দ বিহীন দেবতাখুম, কি এক ভুতুড়ে পরিবেশ! বিন্দুমাত্র কোনো শব্দ নেই এখানে। শব্দ না থাকার ফলে যখন কেউ তার শাস- প্রশ্বাস নিবে তার শব্দও কানে বিঁধে যায়।

আশেপাশের বিশাল পাহাড়ের আনাচে কানাচে সরু ও সংকীর্ণ তৈরী আঁকাবাঁকা সুন্দর পথ। যে পথের সাহায্যে মানুষ তার নিজ চোখে দেবতাখুমের সৌন্দর্য দেখে উপভোগ করতে পারে। এই পথ পাড়ি দিতে হয় ভেলায় করে। মূলত দেবতাখুমের প্রধান বৈশিষ্টই হচ্ছে তার বুক চিড়ে ভেলার চলাচল..

কিছুদিন আগে আমি গেছিলাম, তখন বান্দরবান এর তাপমাত্রা ছিল ৯ ডিগ্রী! সেই তাপমাত্রায় রোয়াংছড়ি তে গিয়ে দেবতাখুম এ সকাল এ গোসল করলাম ১ ঘন্টার মত, উহহ! পরে কি হইছে তা জানতে চেয়ে লজ্জা দিবেন না!

Image may contain: outdoor, water and nature

চলে আসি গল্পে, এই ট্যুরের আমার হিসেবের সাথে আপনাদের মিলবেনা কারণ আমি গিয়েছিলাম আমার ছাত্রদের কে নিয়ে, এদের মাঝে একজন বান্দরবান এর লোকাল ছিল, তাই আমাদের গাইড লাগেনাই দেবতাখুম যেতে, খাওয়া, হোটেল খরচ ফ্রি ছিল! কারণ ওদের রোয়াংছড়িতে হোটেল ছিল, আপনারাও চাইলে ওখানে রাত কাটাতে পারেন, খরচ ও কম পড়বে এবং হোটেল টাও সবদিক দিয়ে ভালো।

Image may contain: one or more people, outdoor, water and nature

দিনে গিয়ে দিনেও আসা যাবে এই ট্যুরে! যারা চট্রগ্রাম থেকে যাবেন তাদের জন্য ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকা জনপ্রতি পড়বে, এর বেশি না! নগরীর বাস টার্মিনাল থেকে বান্দরবান এর বাস ভাড়া ১১০ টাকা, সকাল সকাল চলে যাবেন, ৭টা না হলে ৮টার বাস অবশ্যই ধরতে হবে যদি রাতে না থাকার প্ল্যান থাকে।

২ ঘন্টার মাঝেই বান্দরবান, সেখান থেকে রোয়াংছড়ি অটো করে গেলে ৮০টাকা, বাস মে বি ৬০টাকা। রোয়াংছড়ি থেকে কচ্ছপ্তলি যেতে হবে আপনাকে, পুরা সিএনজি এর খরচ ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। তারপর ট্রেকিং এর শুরু, খাওয়া কচ্ছপ্তলী তে বলে যেতে পারবেন তাহলে ঘুরে এসে ফ্রেশ হয়ে দুপুরের খাবার খেতে পারলেন!

Image may contain: people sitting, outdoor, water and nature

ট্রেকিং বেশিক্ষন না, ১ঘন্টার মত, যাওয়ার সময় পরিষ্কার পানি আপনাকে মুগ্ধ করবে, গাইডকে দিতে হবে ৫০০ টাকা! যদিও আমাদের লাগে নাই। ভেলা আর লাইফ জ্যাকেট এ খরচ পড়বে ৩০০ থেকে ৪০০ এর মত, আমাদের কম লাগছে যদিও। আমাদের সাথে লোকাল ৩-৪ জন ছিল তাই সব দিক দিয়ে আমাদের খচ কম পড়ছে। এরপর আর কি, শুধু মজা আর মজা!!

যদিও অনেকে বলে বর্ষাকালে সুন্দর কিন্তু আমার মতে শীতকালেই যাওয়া ভালো, কারণ পানির কালার আর কি পরিষ্কার, উহহ বলার মত না!

Image may contain: sky, mountain, tree, grass, outdoor and nature

যেখানে গিয়ে সবাই সাধারণত যে জায়গায় নেমে পিক তুলে ব্যাক করে, আমরা উল্টা লাইফ জ্যাকেট পড়ে সেখান থেকে এডভেঞ্চার শুরু করি, যদিও আপনারা চাইলে তা পারবেন না, কারণ গাইড আপনাদের কে মানা করবে। আমরা অনেক দূরে চলে যাওয়ার পর ভয় পেয়ে যাই, কারণ ওখানে কেউ যায়নি, বুঝতে পেরেছিলাম মানুষের পায়ের চাপ, চিপসের প্যাকেট কিংবা কোনো বোতল এর চিহ্ন ছিলনা, তাই উল্টা আবার ব্যাক করে বাকিদের কাছে চলে আসি। এটা আপনারা ভুলেও করবেন না, কারণ আমাদের সাথে গাইড ছিলনা, আর্মি ক্যাম্পে আমাদের কাউকেই নাম এন্ট্রি করতে হয়নি কিন্তু আপনাদের করবে, তাই আপনাদের কিছু হলে গাইড কে ধরবে। সাথে অবশ্যই ভারসিটির আইডি কার্ড, জাতীয় পরিচয় পত্র এগুলা রাখবেন।

Image may contain: mountain, sky, plant, tree, grass, outdoor and nature

যাওয়ার সময় পারলে বান্দরবান নেমে বাস কাউন্টারে জেনে নিবেন শেষ বাস কয়টায় ছাড়বে এবং ফোন নাম্বার টা নিয়ে নিবেন, এতে আপনারা সে কোন সময় টিকেট কেটে রাখতে পারবেন এডবাঞ্চ!

ব্রিঃ দ্রঃ প্লিজ যেখানে সেখানে বিস্কিট এর প্যাকেট, চিপস, কেক, বোতল এগুলা ফেলবেন না, পারলে পলিথিন ভিতর রেখে পরে কোথাও এসে ময়লার ঝুড়িতে ফেলুন।

 

মনজুর হোসাইর রজিন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here