Home » bangladesh » নাকুগাঁও স্থলবন্দর-ঢালু সীমান্ত থেকে ভারতের শিলিগুড়ি বাস চালু(ভিডিও)

নাকুগাঁও স্থলবন্দর-ঢালু সীমান্ত থেকে ভারতের শিলিগুড়ি বাস চালু(ভিডিও)

গারো পাহাড় অধ্যুষিত এলাকা শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় অবস্থিত নাকুগাঁও স্থলবন্দর। এর পাশেই ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ঢালু সীমান্তের ছইফানি বাজার আছে। এখানেই ভারতীয় ইমিগ্রেশন পয়েন্টের পাশ থেকেই পশ্চিম বাংলার শিলিগুড়ি শহর পর্যন্ত যাত্রিবাহী বাস সার্ভিস চালু হয়েছে।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারী থেকে ভারতীয় সময় বেলা তিনটায় বাসটি ছইপানি ইমিগ্রেশন অফিসের পাশ থেকে ছেড়ে যায়। একদিন পরপর বাসটি শিলিগুড়ি-ঢালু যাতায়াত করে। এর আগে ঢালু থেকে প্রায় ৫২ কিলোমিটার দুরে তুরা শহর থেকে শিলিগুড়ি’র বাস চলাচল করতো।

ভারতের ইমিগ্রেশনের একটি সূত্রে জানা গেছে যে, সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে নাকুগাঁও স্থলবন্দর সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাতায়াতকারী যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখান দিয়ে শিলিগুড়ি পর্যন্ত যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই এই সব যাত্রীদের ভোগান্তিরোধে এ সার্ভিস চালু করা হয়েছে।
আর অন্যদিকে গত বছরের ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর একই স্থান থেকে এক দিন অন্তর অন্তর আসাম রাজ্যের রাজধানী গোয়াহাটিতে একটি বাস চলাচল শুরু হয়েছে। এই বাসটি বিকেল সাড়ে ৫ টা ছইফানি ইমিগ্রেশন এর সামনে থেকে ছেড়ে যায় গোয়াহাটির উদ্দেশ্যে। ভারতের এই ঢালু-গোয়াহাটি বাস সার্ভিস চালু হওয়ায় যাতায়াতে অনেক ভোগান্তি লাগব হয়েছে স্থানীয় সহ বাংলাদেশ থেকে গোয়াহাটিতে যাওয়া যাত্রীদের।

ঢালু-শিলিগুড়ির এই নতুন বাসটি তুরা হয়ে আসামের পাইকান, গোয়ালপাড়া ব্রহ্মপুত্র ব্রীজ, কুচবিহার হয়ে যাতায়াত করছে। এখানে দুরত্ব আছে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। তার জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৫০ টাকা।

বাসটি যেদিন যাবে ঠিক পরের দিন শিলিগুড়ি বাস কাউন্টার থেকে বাসটি ছেড়ে আসবে বিকেল ৫ টায়। এবং বাসটি ঢালু সীমান্তে পৌছেবে পরের দিন ভোর ৭ টায়।
এই বাসটি ঢালু সীমান্তের ছইফানি ইমিগ্রেশন এর সামনে থেকে থেকে বিকেল ৩ টায় ছেড়ে গিয়ে পথে ২ টি যাত্রা বিরতি দিবে। আর পরের দিন ভোরে শিলিগুড়ি শহরে পৌছবে বাসটি।

সুত্রে থেকে জানা যায়, ১৯৪৮ সালে জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের নাকুগাঁও সীমান্ত দিয়ে এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার বারেঙ্গাপাড়া থানাধীন ঢালু সীমান্ত দিয়ে দু’দেশের জনসাধারণের পারাপারের জন্য ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট চালু হয়। কিন্তু নানা কারণে তা কিছু দিন চালু থাকার পর বন্ধ হয়ে যায় । যা প্রায় ৫০ বছর বন্ধ থাকে এই ইমিগ্রেশন চেক পোস্টটি। বহু বছর পরে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৯৭ সালে আবারও চালু হয় ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টটি।

তাছাড়া ২০০৪ সালে এখানে চালু হয় শুল্ক স্টেশন। পরবর্তিতে ২০১৪ সালে ওই শুল্ক স্টেশনটি পূনাঙ্গ স্থল বন্দরে রূপান্তরিত হয়। বর্তমানে স্থলবন্দরটি দু’দেশের ব্যবসা মন্দার কারণে অনেকটা স্থবির হয়ে পড়লেও ইমিগ্রেশন চেক পোষ্ট দিয়ে দু’দেশের লোক যাতায়ত ক্রমেই বাড়তে শুরু করেছে। কিন্তু করোনার মহামারির কারণে আবারও এই ইমিগ্রেশন চেক পোষ্টটি সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

তবে আশার কথা হলো গত ২৪ জুন ২০২০ তারিখে আবারও সাময়িক ভাবে বন্ধ হওয়া শুল্ক স্টেশনটি চালু হয়েছে। এবং পণ্য আমাদানি শুরু হয়েছে।

চেকপোষ্ট দিয়ে চলাচলরত ভারত-বাংলাদেশের ভ্রমন পিপাসু যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, এ পথ দিয়ে ভারতের মেঘালয়ের শিলং, আসামের গোহাটি, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিংসহ সিকিম, অরুনাচল যাতায়াত অনেক সুবিধা হয়েছে। অন্যদিকে ভূটান ও নেপালের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখার জন্যেও যাতায়াত কারী যাত্রি সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের মানুষের জন্য যাতায়াত একটি সহজতর বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। ফলে এ চেকপোষ্ট দিয়ে পর্যটক যাতায়াত দিন দিন বাড়ছে।
তবে একটা সমস্যা হলো এই চেক পোষ্টের বাংলাদেশ কিংবা ভারতের কোন স্থানেই মানি একচেঞ্জ না থাকার কারণে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, জুন ২৫, ২০২০এই লেখাটি 403 বার পড়া হয়েছে