Home » bangladesh » না দেখলে মিস করবেন || তুষার খানের গারো পাহাড় ভ্রমণ(ভিডিও)

না দেখলে মিস করবেন || তুষার খানের গারো পাহাড় ভ্রমণ(ভিডিও)

তুষার খান || ছোট পর্দা আর বড় পর্দা মিলিয়ে জনপ্রিয় অভিনেতা তিনি। তিনি যেমন নাটকের জগতে এক জনপ্রিয় মানুষ তেমনি সিনেমাতে। স্বপ্নের নায়ক সালমান শাহ এর সাথে সখ্যতা ছিলো বেশ। তাই সিনেমা জগতে তার সাথে বেশ কয়িটি ছবিতেও দেখা যায় এই অভিনেতাকে।

৯০ দশকের জনপ্রিয় টিভি সিরিয়াল “ইতিকথা” নাটকে জামাল কামালের ভুমিকায় অভিনয় করা দুজনের একজন ছিলেন তিনি। সেই নাটকে মূলত তাদের অভিনয় ব্যাপক ভাবে গ্রহণ করেছিলো বিটিভি’র দর্শকেরা।

আজ আর তার সিনেমা বা নাটক নিয়ে কথা বলবো না। তাকে নিয়ে আমরা ঘুরতে গিয়েছিলাম শেরপুর জেলার গারো পাহাড় অধ্যুষিত নালিতাবাড়ী উপজেলাতে। অর্থাৎ সোজা বলতে গেলে গারো পাহাড়ে গিয়েছিলাম তাকে নিয়ে। গারো পাহাড় যে এত সুন্দর তা তিনি ভাবতেই পারেন নি। তাই পাহাড়ের সৌন্দর্য তাকে অভিভুত করেছে। যা তাকে দেখেই বুঝা যাচ্ছিলো।

আপনারার ভিডিওতে দেখে থাকবেন যে, সেখান যাওয়ার আগে আমরা তাকে নিয়ে নালিতাবাড়ীর সীমান্তবর্তী নাকুগাঁও স্থলবন্দর ঘুরিয়ে নিয়ে আসলাম। ভুটান আর ভারত থেকে আগত এই সব পাথরের বড় বড় বোল্ডার ভেঙ্গে যেখানে ছোট ছোট পাথর তৈরি করা। সেগুলো দেখালাম।

তার ইচ্ছা ছিলো সেখানে ব্যবসা করার কিন্তু ভারত থেকে আমদানির যে বেহাল অবস্থা তাতে কি আর ব্যবসা হবে ? একদিন মালামাল আমদানি হলে ৩ দিন বন্ধ থাকে। এভাবে তো আর ব্যবসা চলতে পারে না। তাই আর বেশি দুর এগোয়নি।

আমরা যেদিন গিয়েছিলাম দিনটি ছিল শুক্রবার। আর তারিখ ছিল ২০১৯ সালর ১৫ মার্চ।

ভিডিও তে যদি লক্ষ করে তবে দেখবেন, কাক ডাকা ভোরে আমরা রওনা দিলাম ময়মনসিংহ হয়ে শেরপুরের উদ্দেশ্যে। সাথে ছিল বড় ভাই মান্নান শফিক। যিনি টেলিভিশন নাট্য পরিচালক। আর মূলত যাকে কেন্দ্র করে যার সাথে সেখানে গিয়েছিলাম তিনি আমাদের শ্রদ্ধেয় তুষার ভাই । মানে তুষার খান। তিনি খুব রসিক একজন মানুষ।

আগেই বলেছিলাম তার সাথে প্রয়াত চলচিত্র নায়ক সালমান শাহ’র সাথে বেশ ঘনিষ্ঠতা ছিল। আমরা জয়দেবপুর পার হয়ে ঢাকা ময়মনসিংহের চার লেন রাস্তা ধরে এগিয়ে চলেছি।
আর একটি কথা বলা হয়নি। তুষার ভাই এর ছোট মামা তিনিও আমাদের সাথে গিয়েছিলেন গারো পাহাড়ে। অনেক রকম কথা হচ্ছে তুষার ভায়ের সাথে। তিনি গান পাগল মানুষ, তাই গাড়ীতে বসে গান ছেরে দিলেন। আর গাড়ীতে বসে বসে গান নিয়ে যত গবেষণা চলতে থাকলো আমাদের মাঝে।

আমরা ভাওয়াল গড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে করতে এগিয়ে চলেছি। সাথে সেকেলের পুরাতন যত সব গান আছে তা বাজতে থাকলো গাড়ীতে।

দেখতে দেখতে আমার মাওনা চৌরাস্তা অতিক্রম করেছি। আর কিছু দুর যাওয়ার পরই আমরা ময়মনসিংহের ব্রক্ষ্যপুত্র নদী অতিক্রম করবো। আমাদের গান কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না। অবিরত বেজে চলেছে তার মত করে।

তুষার ভাই বহু বছর পর আসলেন ময়মনসিংহের আঙ্গিনায়। তাই একটু আবেগ আপ্লুত। কারণ তার শৈশব কেটেছে এই ময়মনসিংহে। তার স্মৃতি বিজরিত ময়মনসিংহ অতিক্রম করছি অপ্লুত হওয়াটাই স্বাভাবিক।

দু’পাশে গ্রামিণ প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখে দেখে অতিক্রম করে চলেছি। আমাদের কথা বার্তা চলছে। যেহেতু প্রায় ২০০ কিলোমিটার রাস্তা সুতরাং সময় অনেকটা লেগে গেলো। তাই যে যার মত কথার ঢালা খুলে বসেছি। যার যত স্মৃতি আছে সবই উতরানোর চেষ্টায় লিপ্ত আছি সবাই।

এই করতে করতে আমরা ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা অতিক্রম করে সামনের ভাইট কান্দি বাজারে আসলাম। এখান থেকে আরো কিছুদুর পরে শেরপুর জেলার নকলা উপজেলায় চলে যাবো। এখান থেকে নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর প্রায় ৩০ মিনিট লেগে যাবে।

বলে রাখা ভালো, নকলা থেকে নাকুগাঁও স্থল বন্দরের দুরুত্ব প্রায় ২৮ কিলোমিটার। এই রাস্তাটি কিন্তু বেশ ভাল এবং চকচকে। কারণ ভুটান আর ভারতের সাথে স্থল বাণিজ্যের বড় একটা সম্ভাবনার জন্য বাংলাদেশের অংশে এই রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে। যদিও এই ব্যবসার প্রসার এখনো সেভাবে শুরু হয়নি। কারণ এই স্থলবন্দর দিয়ে মেঘালয়ের একটি জটিল সমিকরণের মধ্যে দিয়ে বাণিজ্য করতে ব্যবসায়িরা খুব একটা আগ্রহ দেখায় না।

আমরা এই করতে করতে কখন যে সীমান্তে চলে এসেছি টেরই পেলাম না। সীমান্তে যে ডিপোগুলো আছে তুষার ভাই সহ আমাদের টিমের সবাই সেখানে নেমে গেলাম। আপনার ভিডিটি খেয়াল করলেই দেথতে পাবেন।
আর দেখে নিলাম এখানে কিভাবে বড় বড় পাথর ভাঙ্গানো হয়। মুলত ভারত আর ভুটান থেকে বড় বড় বোল্ডার এনে বাংলাদেশে ক্রাশার মেশিন দিয়ে বিভিন্ন সাইজের পাথর তৈরি করা হয়। বেশ কিছুক্ষণ ঘুরাঘুরি করে আমরা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে চলে গেলাম।

সেখানে গিয়ে আর এক বিপত্তি। টিভি আর চলচিত্র অভিনেতা এসেছেন । তাই মানুষজন হুমরি খেয়ে পরছে তার সাতে সেলফি তুলার জন্য। কিছুই কারার নেই নাট্য ব্যক্তিত্ব বলে কথা।

সীমান্তে প্রচুর লোকের সমাগম হয়। মূলত ওপারের মানুষজন দেখতে কেমন, দৈনন্দিন জীবন যাপন কেমন !! এসব দেখার জন্য প্রচুর মানুষ ভিড় জমায় এই স্থল বন্দরের আশ-পাশে। আর এগুলো সামাল দিতে দিতে বিজিবি ভাইয়রা ক্লান্ত।

প্রতিদিন এভাবে মানুষজন সীমান্তে ভিড় জমায়। সে উপলক্ষে অনেকেই অস্থায়ী ভিবিন্ন খাবারের দোকান নিয়ে বসে যায় এখানে। কেউ আইসক্রীম আবার কেউ শশা বা অন্যান্য খাবার নিয়ে বসে আছে ।
স্থলবন্দরে আগতদের কেউ ভাড়া গাড়ী আবার কেউ নিজস্ব বাহনে করে চলে এসেছে এখানে।

আমরা এখানে প্রায় ৪০ মিনিট সময় অতিবাহিত করে আবার চলে গেলাম মধুটিলা ইকো পার্কের দিকে। এই স্থল বন্দর থেকে মধুটিলা ইকোপার্ক প্রায় ৬ কিলোমিটার পশ্চিম দিকে হবে।
গারো পাহাড়ের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাংলাদেশের অংশে আছে এই অপরুপ সৌন্দর্যের লীলা ভুমি। ভ্রমণ পিয়াসীদেরকে পাহাড়ের মায়াবী ডাকে নিয়ে আসবেই এখানে। প্রকৃতি, আলো-হাওয়া, সুন্দরের টানে যারা বেড়াতে ভালোবাসেন তারা নিশ্চিন্তে চলে আসতে পারেন এখানে।

যেখানে পাবেন সুউচ্চ গারো পাহাড়, ঢেউ খেলানো সবুজের সমারোহ, ছোট নদী ঢেউফা, ভোগাই সঙ্গে গারো, হাজং, কোচ সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের নিয়ে সৌন্দর্যের যেন দোকান খুলেছে জেলা শেরপুর। আমরা আজ ভিডিওর মাধ্যমে প্রতিবেদন দেখানোর চেষ্টা করছি।

তুষার ভাই এই সৌন্দর্য দেখে তো বলেই দিলেন, যারা সিলেটে যায়নি তারা এখানে আসলে সিলেটের স্বাদ পাবেন। কারণ সিলেটের মত বড় বড় পাহাড় না থাকলেও গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য কোন অংশেই কম নয়।

আমরা আমাদের গাড়ীটি মধুটিলা ইকোপার্কের সামনে পর্যন্ত নিয়ে গেলাম । কিন্তু ভিতরে যাওয়া হয়নি কারণ ভিতরে গেল অনেক সময় ক্ষেপন হবে তাই ভিতরে গেলাম না। আমরা যেহেতু আজকেই ঢাকা ফিরবো তাই ইকো পার্কের ভিতরের সৌন্দর্য উপভোগ করার আর সুযোগ পেলাম না।

মধুটিলা থেকে বের হয়ে আমরা ফেরত আসলাম। আসার সময় পাহাড়ের বুক চিরে যে রাস্তা চলে গিয়েছে সেটার সামনে দাঁড়িয়ে কিছু ছবি তুলে নিলাম। যেনো স্মৃতি হিসেব রেখে দিতে পারি।

আমরা এখান থেকে বরে হয়ে সোজা ঢাকার দিকে রওনা দিয়ে ছিলাম । এবং সেদিন ঢাকায় পৌছতে পৌছতে রাত ১ টা বেজে গিয়েছিল। তুষার ভাই আমাদের বাসায় নামিয়ে দিয়ে তিনি তার গাড়ী নিয়ে তার বাসায় চলে গিয়েছিলেন।

খুব সুন্দর একটি ভ্রমণ করেছিলাম সেদিন। খুবই মনে থাকবে এটা। কারণ এখন করোনার কারণে সারাদেশে লকডাউন চলছে। আবার কবে এই সুযোগ হবে কেউ বলতে পারে না।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: শুক্রবার, জুলাই ১০, ২০২০এই লেখাটি 391 বার পড়া হয়েছে