Home » bangladesh » পাহাড়ের ভূমিপুত্র হয়ে পাহাড়ের দুঃখকে অনুধাবন করার হৃদয় কি আমাদের আছে?

পাহাড়ের ভূমিপুত্র হয়ে পাহাড়ের দুঃখকে অনুধাবন করার হৃদয় কি আমাদের আছে?

(মিতুল চাকমা বিশাল)

বিদ্যা অনন্ত, জ্ঞান অসীম।
বর্ষণমূখর এই দিনগুলিতে জ্ঞানের মহাসমুদ্রে ডুব দিই চলো। জ্ঞানের উৎস কি,মার্কসের অনুসারে প্রকৃতি বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান(সমাজের উৎপাদন সংগ্রাম এবং শ্রেণীসংগ্রাম) হচ্ছে জ্ঞানের আধার। তাহলে এই জ্ঞান কি প্রকারে অর্জিত হয়? মার্কসবাদের জ্ঞানতত্ত্ব অনুসারে প্রত্যেকটি জ্ঞান অর্জিত হয় দুই প্রকারে,প্রথমত প্রত্যক্ষভাবে এবং দ্বিতীয়ত পরোক্ষভাবে। একজনের কাছে যা প্রত্যক্ষ, অপরের কাছে তা পরোক্ষ। আবার অনুরুপভাবে অপরের কাছে যা প্রত্যক্ষ,একজনের কাছে তা পরোক্ষ। অর্থাৎ সমস্ত জ্ঞান প্রত্যক্ষ জ্ঞান থেকেই অর্জিত হয়। প্রত্যক্ষ জ্ঞান,যা কোন বাস্তব সংগ্রাম,বাস্তব অভিজ্ঞতা,তার পারিপার্শ্বিক অবস্থা,এসমস্ত কিছু থেকে অর্জিত হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাকেও সম্যকভাবে জানার প্রয়াস অবশ্যই করতে হবে,অর্জিত জ্ঞান তখনই ফলপ্রসু হয় এবং তা পূর্ণরুপে অর্জিত হয়েছে বলা যায়,যখন সে জ্ঞানকে অভিজ্ঞতার দ্বারা আরো উচ্চতর রুপে বিকশিত করা যায় এবং তার জন্য আমাদের অবশ্যই কিছু করতেও হবে। ভবিষ্যতে কি হতে চলেছে,কি হবে,তার নির্ধারণ আমরা করতে পারি না বটে। তবে তার নির্মাণ আমরা অবশ্যই করতে পারি,নিজেদের বর্তমান কার্যের দ্বারা। এখানে অলৌকিকতার কোন স্থান নেই,পরের হস্ত দ্বারা উপকৃত হওয়ারও কোন যৌক্তিকতা নেই,নিজের যোগ্যতা এবং সামর্থ্যের প্রদর্শন করার সময় এখন, তবে বিশ্রাম কিংবা বসে থাকার কি আদৌ কোন প্রয়োজন আছে আমাদের কাছে? না,নেই। লক্ষ্য স্থির রেখে নিজের ব্রতকে কর্তব্যরুপে গণ্য করার সৎসাহস নিয়ে সামনে অগ্রসর হতে কেনই বা দ্বিধা থাকবে? যদি সত্যকে জানতে পারি,যদি বাস্তবকে জানতে পারি,তবে সংশয়ের কোন অবকাশ থাকার কথা নয়।

পাহাড়ের ভূমিপুত্র হয়ে পাহাড়ের দুঃখকে অনুধাবন করার হৃদয় আমাদের আছে,
তবে সেটাকে কি কেবল ভাগ্য আর নিয়তি বলেই চালিয়ে নেওয়া উচিত কার্য? নাকি দুঃখকে আলিঙ্গন করে দুঃখ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজে বের করা উত্তম কার্য? গৌতম বুদ্ধও তো তাই করেছিলেন না? দুঃখ থেকে মুক্তির উপায় খুঁজতেই তো ধ্যান-সাধনায় মগ্ন হয়েছিলেন,নিজের সমস্ত কিছুকে পরিত্যাগ করে। তবে সমাজের কল্যাণার্থে,এই বিশ্বের কল্যাণার্থে তপস্যায় মগ্ন হতে দ্বিধা কোথায়? নিজেকেই প্রশ্ন করুন!

ঐ দেখো না! কেওক্রডং,ফুরমোন আর আলুটিলা পাহাড়গুলোর দিকে,কি বলতে চাইছে তারা? তাদের আহবান কি তোমার কানের সদর থেকে মনের অন্দরে পৌঁছে বিবেককে নাড়া দিচ্ছে না এখনো? চেঙী,কাচালং,শঙ্খ, রেইংখ্যাং আর বড়গাঙের গর্জন কি তোমার হৃদয়কে বিক্ষুব্ধ করে তুলছে না এখনো?

স্থিরচিত্র: স্নেহধন্য Mithun Changma

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২০এই লেখাটি 294 বার পড়া হয়েছে