Home » bangladesh » মধুটিলা ইকোপার্ক | নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড় (ভিডিও)

মধুটিলা ইকোপার্ক | নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড় (ভিডিও)

ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্তঘেঁষা শেরপুর ও জামালপুর জেলার প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়। এই গারো পাহাড়ে দেশের পার্বত্য এলাকার মতো সুউচ্চ পাহাড় বা লেক না থাকলেও এখানকার শাল-গজারি, সেগুন-মেহগনি, মিনঝিরিসহ নানা প্রজাতির গাছগাছালি ঘেরা উচু-নিচু টিলা আর পাহাড়ি টিলা বেয়ে পাকা রাস্তা রয়েছে। এরই বুক চিরে দাঁড়িয়ে রয়েছে মধুটিলা ইকোপার্ক।

মধুটিলা ইকোপার্ক, ১৯৯৯ সালে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার উত্তরে এবং শেরপুর জেলা সদর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার উত্তরে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় ময়মনসিংহ বন বিভাগের ব্যবস্থাপনাধীন পোড়াগাঁও ইউনিয়নের মধুটিলা ফরেস্ট রেঞ্জের সমেশ্চূড়া বিটের আওতায় ৩৮০ একর পাহাড়ি টিলার ওপর মধুটিলা ইকো পার্ক নামে মনোরম পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হয়েছে।
এই মধুটিলা ইকো পার্কের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছি। আশা করি সকলেই দেখবেন।

যেভাবে যাবেনঃ
ঢাকার মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে শেরপুরের জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলায় চলে যাবেন। ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭.৩০ পর্যন্ত বেশ কিছু সরাসরি সার্ভিস পাবেন যা দিয়ে খুব তারাতারি নালিতাবাড়ীতে চলে যাবেন।

এরপর নালিতাবাড়ি শহর থেকে মধুটিলা ইকো পার্ক পর্যন্ত রিক্সা বা অটোরিক্সায় যাওয়া যাবে। এতে জন প্রতি ২৫ টাকা থেকে ৩০ টাকা এবং রিজার্ভ ভাড়া নিবে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা।

এছাড়া শেরপুর জেলা শহর থেকে ভাড়ায় চালিত সিএনজি অটোরিক্সা অথবা মাইক্রোবাস ভাড়া করেও ইকো পার্কে যাওয়া যাবে। দিন চুক্তি ভাড়া ২ থেকে ৩ হাজার টাকা।

এছাড়া মধুটিলা ইকো পার্ক থেকে ভোর ৬টায় প্রতিদিন ঢাকার মিরপুর পর্যন্ত এবং মিরপুর থেকে প্রতিদিন বেলা ২ টায় ইকো পার্ক পর্যন্ত যাতায়াত করছে একটি বাস। আর যারা ঢাকা থেকে নিজস্ব গাড়িতে আসতে চান তারা ময়মনসিংহ পার হয়ে সরাসরি শেরপুরের নকলা উপজেলা থেকে শেরপুর জেলা সদরে না এসে নালিতাবাড়ি উপজেলা হয়ে মধুটিলা যেতে পারেন।

সমতলের দিকে ছুটে চলা ছোট ছোট ঝোড়া, ছড়া ও ঝর্ণা দিয়ে বয়ে যাওয়া পানির কলকল শব্দ যে কোনো প্রকৃতিপ্রেমীর হৃদয় আন্দোলিত করবে। সেই সঙ্গে ওই সব পাহাড়ি টিলার ওপর এবং সমতলে শত শত বছর ধরে বসবাসকারী আদিবাসী নৃ-গোষ্ঠীর নানা সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও জীবন-জীবিকা পাহাড়ের সৌন্দর্যকে আরো বৃদ্ধি করেছে। পাহাড়ের চূড়ায় ওয়াচ টাওয়ারে দাঁড়িয়ে উঁচু-নিচু পাহাড়ের গায়ে মেঘ-রোদ্দুরের খেলা আর সীমান্তের ওপারের ভারতীয় অধিবাসীদের ঘর-বাড়ির দৃশ্যে মন ছুঁয়ে যায়।

এখানে রয়েছে সুদৃশ্য প্রধান ফটক, ডিসপ্লে মডেল, তথ্য কেন্দ্র, গড়ি পার্কিং জোন, ক্যান্টিন, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, মনোরম লেক ও বোটিং, স্টার ব্রিজ, স্ট্রেম্পিং রোড বা সুউচ্চ পাহাড়ে উঠার জন্য ধাপ রাস্তা (সিঁড়ি), মিনি শিশু পার্ক, মহুয়া রেস্ট হাউজ ইত্যাদি।

পার্কের প্রবেশ পথ ধরে যাওয়া বিভিন্ন সড়কের পাশে স্থাপন করা হয়েছে হাতি, হরিণ, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, সিংহ, বানর, কুমির, ক্যাঙ্গারু, মৎস্যকন্যা, মাছ, ব্যাঙসহ বিভিন্ন জীবজন্তুর ভাস্কর্য। আমরা পরো ভিডিওটি সাজিয়েছি এই সকল মনোরম দৃশ্যগুলো চিত্র ধারণ করে। আপানারা দেখে সত্যি তৃপ্ত হবেন আশা করি।

এখানে বিশ্রামের জন্য রয়েছে দুটি ভিআইপি কক্ষসহ চার কক্ষবিশিষ্ট ‘অবকাশ ভবন’ এবং লেকের উপর দুই কক্ষবিশিষ্ট ব্যক্তিগত ‘জিহান রেস্ট হাউস’।
সরকারি বিশ্রামাগারে শুধু দিনের বেলার জন্য জেলা নেজারত শাখা থেকে ৫০০ টাকা অগ্রিম বুকিং দিয়ে ভাড়া নেওয়া যায় এবং ব্যক্তিগত রেস্ট হাউসটি ব্যবহার করতে চাইলে এর মালিক জেলা শহরের রশিদা বিড়ি ফ্যাক্টরির মালিক ইদ্রিস মিয়া অথবা অবকাশ কেন্দ্রেই তার মনোনীত লোকের মাধ্যমে ভাড়া নেয়া যায়।
এছাড়া আছে ঔষধি ও সৌন্দর্যবর্ধক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের বাগান, মৌসুমী ফুলের বাগান এবং সাত রঙের গোলাপ বাগান।

ধারাবাহিক ভাবে আমরা চিত্র ধারণ করেছি। আপনারা দেখতে থাকুন পুরো ভিডিওটি এবং উপভোগ করুন প্রকৃতির সমস্ত সৌন্দর্য।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: রবিবার, জুন ২৮, ২০২০এই লেখাটি 246 বার পড়া হয়েছে