Home চাকরির বার্তা বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে চারুকলা শিক্ষক সংকটঃনীতিমালার শর্তে বন্দি হাজার হাজার দক্ষ জনবল

বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলে চারুকলা শিক্ষক সংকটঃনীতিমালার শর্তে বন্দি হাজার হাজার দক্ষ জনবল

295
0
সাধারণত সৃষ্টিশীল কর্মের প্রকাশই শিল্পকলা ।শিল্পকলার প্রধান দুইটি ভাগের একটিকে চারুকলা অন্যটিকে কারুকলা নামে অভিহিত করা হয়।
শিশু- কিশোরদের মধ্যে এই চারু ও কারুকলা চর্চার বহুমুখী গুরুত্ব বিবেচনায় স্বাধীনতার পূর্ববর্তী সময় থেকেই দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে চারু ও কারুকলার পাঠদান চলে আসছে । বর্তমানে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে এ বিষয়ের শিক্ষক আছে । যেখানে দুই শিফট চালু আছে সেখানে দুই জন চারুকলা শিক্ষক আছেন । চারুকলা শিক্ষক নিয়োগে ১৯৯৬ সালের দিকে তৎকালীন সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিল ।সে সময় শিল্পী হাশেম খানের নির্দেশনায় চারু ও কারুকলা পাঠ্যবই নতুন ভাবে সংস্করণ হয়। দেশের নামি দামি প্রাইভেট স্কুলগুলোতেও সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষক দিয়ে গুরুত্ব সহকারে বিষয়টির পাঠদান চলছে । কিন্তু বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীরা এই বিষয়টির চর্চার সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যুগ যুগ ধরে।বিশেষ করে গ্রাম অঞ্চলের লাক্ষ লাক্ষ শিক্ষার্থী ।চারু ও কারুকলা শিক্ষা শুধু শহরে ধনী ঘরের সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে ।
সচেতন শিল্পী সমাজের তাগাদা সত্ত্বেও স্বাধীনতা পরবর্তী সব সরকারই বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোতে বিষয়টি চালুর ব্যাপারে উদাসীন ছিল ।একটি রাষ্ট্রে বছরের পর বছর শিক্ষার্থীদের সাথে কিভাবে এমন বৈষম্য চলতে পারে ? বর্তমান প্রজন্ম থেকে এমন প্রশ্ন আসছে ।
তবে অনেক দেরিতে হলেও বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে প্রথম চারু ও কারুকলা(পূর্ণমান -৫০) শিক্ষার কার্যক্রম শুরু করে । জনবল কাঠামোতে এ বিষয়ের পদ সৃষ্টি না করেই সে বছর থেকে সরকার প্রায় ২০ হাজার স্কুলে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছে আবশ্যিক বিষয় হিসেবে পাঠ্যবই বিতরণ শুরু করে।
তারপর স্কুলগুলোতে নানা ভাবে অবমূল্যায়ন করা হয় বিষয়টিকে।প্রতিবাদে দেশ বরেণ্য চিত্রশিল্পী, চারুকলার বিভিন্ন সংগঠন, চারুকলা শিক্ষক, শিক্ষার্থী প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ।তাতে অবস্থার কোন উন্নতি ঘটেনি ।ফলে গ্রামের অভিভাবক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ শিক্ষা সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্মাচ্ছে যা সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তকে প্রশ্ন বিদ্ধ করছে ।
এরপর ২০১৮ সালের জুন মাসে জারি হয় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০১৮’। এই নীতিমালায় প্রথম বারের মত যুক্ত হয় চারুকলা শিক্ষক পদ ।২০১৯ সালের ৩০ মে প্রকাশিত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ২০২২ -২০২৩ অর্থ বছর থেকে এ পদে নিয়োগ ও এমপিও দেওয়া হবে (এখানেও বিলম্ব করার বিষয়টি উঠে এসেছে )।
সামনে এমপিও ভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলগুলোতে প্রয়োজন ২১ হাজার চারুকলা শিক্ষক । আগামীতে যত সংখ্যক মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত হবে এ সংখ্যা তত বৃদ্ধি পাবে।
নীতিমালা অনুযায়ী চারুকলা শিক্ষক পদে আবেদনের নূন্যতম যোগ্যতা চারুকলায় স্নাতক (পাস/অনার্স ) ডিগ্রি, বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫বছর সাথে ‘এনটিআরসিএ’ থেকে নিবন্ধন । যদিও পূর্বের(২০১০) নিয়োবিধিতে নির্দিষ্ট বয়সসীমা এবং নিবন্ধনের কোন শর্ত ছিলনা ।এ অবস্থায় , সর্বপ্রথম চারুকলা শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় এসব শর্ত যুক্ত করার কারণে চারুকলার বৃহত্তর জনবল এ পদে আবেদনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ।অর্থাৎ পূর্ববর্তী সময়ে চারুকলা থেকে যারা উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী , অস্থায়ী /চুক্তি ভিত্তিক কাজ করছেন কিংবা ফ্রিল্যান্সিং এর মতো রিস্কি অবস্থানে আছেন তারা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন ।
বাস্তবে দেখা যাচ্ছে , সরকার একদিকে প্রতি ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছে অন্যদিকে হাজার হাজার শূণ্য পদের বিপরীতে জনবল সংকট থাকার পরেও কর্মক্ষম আঁকিয়ে ও শিল্পীদের অদূরদর্শী নীতিমালার শর্তের বেড়াজালে আটকে রাখছে ।
এমন দায়- সারা গোছের অদূরদর্শী নিয়োগবিধির ফলে চারুকলা অঙ্গণে বেশ ক্ষোভ চলছে ।অবশ্য ক্ষোভের কিছু কারণও আছে ।কারণ, সরকার যখন ২০১০ সালের নীতিমালা কিছুটা পরিবর্তন করে ‘ সংশোধিত নীতিমালা ২০১৩’ প্রকাশ করল তখন চারুকলা পদ যোগ করা হলো না কেন ?কারণ সংশোধিত নীতিমালাতে এ পদ থাকলে চারুকলার কিছু জনবল সহজেই শিক্ষকতায় আসতে পারতেন । অথচ সময়ে ব্যবধানে নীতিমালার শর্তে বিপুল সংখ্যক যোগ্য জনবল আজ অযোগ্য বলে বিবেচিত হচ্ছেন ।
যদি এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে পূর্বের নিয়োগবিধি অনুসরণ বা বর্তমান নীতিমালার শর্ত শিথিলের উদ্যোগ না নেয় তাহলে ফলাফল কী হবে? নিশ্চিত বেসরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে চারু ও কারুকলা শিক্ষক এবং শিক্ষা আরও কয়েক যুগ বৃত্তের মাঝে ঘুরপাক খাবে ।আর বরাবরের মতো শিক্ষায় বৈষম্য থেকেই যাবে ।
পূর্বেই বলেছি বর্তমান চারুকলার যে সংখ্যক জনবলের চাহিদা সে তুলনায় যোগান অতি নগণ্য ।হিসাব মতে, বর্তমানে দেশের মোট ১৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হতে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার শিক্ষার্থীর চারুকলায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ আছে।কিন্তু আর্ট কলেজ ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট আসন পূরণ না হওয়া সহ নানা কারণে প্রতি বছর চারুকলায় উচ্চ ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছে প্রায় ১২ শত শিক্ষার্থী।
এই ১২ শত ডিগ্রিধারী কি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে নেবে? অবশ্যই না।কারণ একটি অংশ উচ্চ বেতনের পেশা বেছে নিবে । আর যারা শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহী তাদের একটি অংশ নিয়োগবিধির কঠিন স্তর গুলো থেকে ঝরে পরবে।শেষে কতজন প্রার্থী অবশিষ্ট থাকবে তা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয়।
উদাহরণ হিসেবে চারুকলার প্রথম নিবন্ধন তথা ২০১৮ সালের ১৫ তম নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি টেস্টে চারুকলার মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২৬জন ।এদের মধ্যে ১৩ জন চুড়ান্ত ফলাফলে উর্ত্তীণ হয়েছে ।তাহলে দেখা যাচ্ছে,দরকার ২১ হাজার শিক্ষক কিন্তু এক বছরে পাওয়া গেল মাত্র ১৩ শিক্ষক ।
যদি আগামীতে এ সংখ্যা ১৩ জন থেকে ৫০০ জনেও উন্নিত হয় তবু ২১ হাজার শিক্ষক পদ পূরণের জন্য ৪২ বছর লেগে যায়।এ সংখ্যা যদি ১ হাজার হয় তাহলে লাগে ২১ বছর ।বাস্তবে কি ১৩ জন থেকে এক বছরের ব্যবধানে ৫০০ জন কিংবা দুই বছরের ব্যবধানে ১ হাজার জনে পৌঁছানো সম্ভব ?
এখন যদি শিক্ষার্থীরা জানতে চায় , চারুকলার বই পেলাম স্বাধীনতার ৪২ বছর পরে, শিক্ষক পেতে কি আরও ৪২ বছর অপেক্ষা করতে হবে? এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর সরকারকেই দিতে হবে।
কাজেই বর্তমান যে সংখ্যক দক্ষ জনবল হাতে আছে সরকার তার সদ্ব্যবহার করতে পারে ।স্কুলগুলোতে চারু ও কারুকলার চর্চা যথাসম্ভব চালু রাখতে দ্রুত চারুকলা শিক্ষক নিয়োগ ও কিছু দূরদর্শী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংকটাপন্ন অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন আনা যেতে পারে ।
যদি বর্তমান সরকার এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চায় তাহলে শুধু শিক্ষাবিদ বা বুদ্ধিজীবী নয়, চিত্রশিল্পী/চারুকলা শিক্ষক এমনকি প্রকৌশলীদের পরামর্শ নেওয়া জরুরি হয়ে পরেছে । তাঁরা অবশ্যই কোন না কোন সুষ্ঠু সমাধান বের করতে সক্ষম হবেন ।
এরপরও কিছু ভাবনা সংশ্লিষ্ট সবার জন্য তুলে ধরা হলো । যেমনঃ
১। প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে ২০১০ সালের নিয়োগবিধি অনুসরণ বা চলমান নিয়োগ নীতিমালার শর্ত শিথিল করে ইতিপূর্বে পাশকৃত চারুকলায় নূন্যতম স্নাতক ডিগ্রিধারীদের মধ্য থেকে যারা শিক্ষকতায় আসতে আগ্রহী তাদের নিয়োগ দেওয়া।
২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে নিয়োগ ও এমপিও’র সিদ্ধান্ত বাতিল করে চলতি অর্থ বছর থেকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা।
(এক্ষেত্রে সরকার ২০১৫ সালের সরকারি নার্স নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারে। কারণ, সেই সময় বর্তমান সরকার ১০ হাজার নার্স নিয়োগে কয়েক বছরের জন্য বয়সসীমা সহ নিয়োগবিধি শিথিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল)।
নিয়োগকৃত জনবল দিয়ে আনুমানিক ৩-৪ হাজারের বেশি পদ পূরণ করা সম্ভব না ।তাই যেসব স্কুল শিক্ষক পাবে না সেই স্কুলগুলো থেকে চারু ও কারুকলা বিষয়ে পারদর্শী বা পাঠদানে আগ্রহী শিক্ষকদের তালিকা ভুক্ত করে সরকারি ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয় রোধে নিয়োগকৃত শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা ।
অথবা,
নিয়োগকৃত মোট জনবল তথা চারুকলা শিক্ষকদের উপজেলা ভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া । এরপর শিক্ষকদের উপজেলার স্কুলের সংখ্যা অনুপাতে কর্মস্থল নির্দিষ্ট করে দেওয়া ।যেহেতু ৫০ পূর্নমানের চারুকলা বিষয়টি তত্ত্বীয় ও ব্যবহারিক দুই ভাগে বিভক্ত তাই শুধু ব্যবহারিক অংশটি চারুকলা শিক্ষক দিয়ে এবং তত্ত্বীয় অংশটুকু স্কুলের নির্বাচিত শিক্ষক দিয়ে পাঠদানের ব্যবস্থা করা ।কারণ, এতে একজন শিক্ষকের বেশি সংখ্যক স্কুলে ব্যবহারিক অংশটি শেখানোর সুযোগ পাবেন ।
এরপরও যেসব স্কুল চারুকলা শিক্ষক পাবে না সেসব স্কুলের শিক্ষকদের চারুকলা শিক্ষক দিয়ে উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান চলমান রাখা ।
২। প্রথম নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর দ্বীতীয় নিয়োগ থেকে চলমান /২০১৮ সালের নীতিমালা অনুসরন করা । শূণ্য পদগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বয়সসীমা শিথিল রাখা । যেহেতু চারুকলা কলেজের বিএফএ (প্রি-ডিগ্রি ও ডিগ্রি) তত্ত্বীয় অংশের সিলেবাস সাধারন শিক্ষার সিলেবাস থেকে ভিন্নধর্মী ।এজন্য আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ভিত্তিতে শিক্ষক নিবন্ধনের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাসের সাথে চারুকলা বা আর্ট কলেজের সিলেবাস কতটা সঙ্গতিপূর্ণ তা খতিয়ে দেখা ।প্রয়োজনে চারুকলা শিক্ষক নিবন্ধনের প্রার্থীদের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার সিলেবাস সাময়িক /স্থায়ীভাবে পরিবর্তন করা ।পাশাপাশি চারুকলার সিলেবাস আরও যুগোপযোগী করা যায় কিনা তার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেওয়া ।
৩। দেশের সব আর্ট কলেজে অনার্স কোর্স চালু সহ বিভাগ সংখ্যা বৃদ্ধি করার উদ্যোগ নেওয়া ।
যে বিভাগে চারুকলায় উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ নেই সেখানকার পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা বিষয়টি চালুর উদ্যোগ নেওয়া যায় কিনা
বিবেচনায় আনা ।উদাহরণ স্বরূপ- রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।
মানুষের জীবন রক্ষাকারী ঔষধের যেমন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া আছে তেমনি উল্লেখিত ভাবনাগুলোর মধ্যেও হয়তো ছোট খাটো কিছু পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে।কিন্তু সংকট সমাধানে যদি হাজার হাজার বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের লাক্ষ লাক্ষ শিক্ষার্থী শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ ও সুফল পায় তবে এসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ায় কী যায় আসে?
বিশ্বায়নের যুগে টিকে থাকতে বিশ্বমানের নাগরিক যেমন প্রয়োজন তেমনি প্রয়োজন অত্যাধুনিক শিক্ষানীতি গ্রহণ ।বাঙ্গালীর ভাষা,শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি রক্ষার ধারক- বাহক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শিল্পগুরু জয়নুল আবেদিন। তাঁদের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে
আমাদের ভাষা, শিক্ষা, শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার সর্বত্র সুযোগ দরকার ।
শিল্পগুরু জয়নুল আবেদিনের ভাষায় ,”চাই সর্বস্তরে শিল্পকলা চর্চা ও শিক্ষার অবাধ সুযোগ। অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্য ও মুক্তি যেমন সবার কাম্য তেমনি কাম্য হওয়া উচিত সুন্দর রুচিশীল ও সৎ জীবন , শৈল্পিক জীবন ।
আমি বারবার বলি আমাদের বর্তমান দুর্ভিক্ষ – খাদ্যের দুর্ভিক্ষ ততটা নয়,যতটা রুচির দুর্ভিক্ষ ।একে দুর করতেই হবে ।হয়তো সেক্ষেত্রে আমাদের সংগ্রাম ঐ উভয় দারিদ্রের বিরুদ্ধে ।”
এখন সরকার সংকট নিরসনে কী করবে তা একান্তই সরকারের বিষয়।তবে যথাযথ সমাধান দিতে ব্যর্থ হলে মাধ্যমিক স্কুলগুলোতে চারু ও কারুকলা বিষয়টি চালু করার সিদ্ধান্ত ভুল প্রমাণিত হবে যা সরকারকেই বিতর্কিত করবে।
(লেখাটির বিভিন্ন তথ্য সরকারি /বেসরকারি প্রতিষ্ঠান /বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট, আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ /চারুকলা শিক্ষকের কাছ থেকে নেওয়া।)
পঙ্কজ রায় উদাস
ফ্রিল্যান্স রাইটার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here