Home ভ্রমন বার্তা মেঘের রাজ্য মেঘালয়ে প্রকৃতির তৈরী জীবন্ত ব্রীজ

মেঘের রাজ্য মেঘালয়ে প্রকৃতির তৈরী জীবন্ত ব্রীজ

187
0
ভারতের মেঘালয় রাজ্য উত্তর-পূর্ব ভারতের একটি বিশালাকার পাহাড়।
যেখানে নদীগুলোর সাথে পাহাড়িদের সম্পর্ক  কখনও সহজ ছিল না।

নদীর জলাশয় যত কিছু দিতে পারে তার চেয়ে বেশি কেড়ে নিতেও পারে।

এখানকার পাহাড়িরা সর্বদা  বন্য এবং অপ্রত্যাশিত প্রকৃতির
করুণায় বেচেঁ থাকে সব সময়।

তবে একটি পাহাড়ি গোষ্ঠি তাদের বর্বর নদীগুলো আয়ত্ত করার
এক অনুপ্রেরণামূলক উপায় খুঁজে পেয়েছে।

এখানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ খুব বেশি হয় একবার, এক বছরে ২৫মিটার বৃষ্টি হয়েছে,
তামাম বিশ্বে এটি একটি রেকর্ড।

এটি সম্ভবত পৃথিবীর সবচেয়ে ভেজা জায়গা। এখানে বাস করা অনেক কষ্টসাধ্য ব্যাপার।

অনেক বিরল সমস্যা দেখা দেয় প্রতিনিয়ত।
যার মধ্যে একটি হলো- এই অঞ্চল কখনো শুকনো থাকেন না।
গ্রীষ্ম-বর্ষা প্রায় সমস্ত সময় বৃষ্টিপাত হয়।

 

নদীগুলোতে হঠাৎ স্রোত পরিবর্তিত হয়।
ফলে নদী পারাপার প্রায় অসম্ভব হয়ে পরে।

হার্লি এবং তার ভাগ্নি জুলিয়ানা একটি  “জীবন্ত ব্রীজের” মেরামতে ব্যস্ত।

হার্লি  প্রায় ৩০ বছর আগে,  এই নদীর তীরে  অচেনা ডুমুর গাছটি লাগিয়েছিলেন।

গাছ গুলো যখন বড় হতে থাকে তখন তার অনেক শিকড় ছড়াতে থাকে।

আর সেই শিকড়গুলোই  এখন জীবন্ত ব্রীজে পরিণত হয়েছে।

কীভাবে গাছের যত্ন নিতে হয় হার্লি আজ জুলিয়ানাকে তা শিখাচ্ছে।

বানিয়ান ট্রির ন্যাচারাল ইলেকট্রিসিটি  এই ব্রীজ কে শক্তি দিয়ে থাকে।

এটি এমন একটি কাঠামোর ভিত্তি  যে কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে
টিকে থাকতে পারে।

এটি একটি মহাকাব্য প্রকল্প  যা কোনও মানুষই  এক জীবনে সম্পূর্ণ করতে পারে না।

এটিকে আরও শক্তিশালী করার জন্য  প্রতি বছর জুলিয়ানাকে
শিকড়গুলির যত্ন নিতে হবে। এই কারণেই হার্লি তার জ্ঞানটি  জুলিয়ানাতে পৌঁছে দিচ্ছে।

জুলিয়ানা ভবিষ্যতে যেনো  সেতুটি রক্ষণাবেক্ষণ করতে পারে,জুলিয়ানা যত্ন নিয়ে  বুঝলেন,  এই তরুণ সেতুর ভবিষ্যতটি নিরাপদ।

এরকম কয়েক ডজন জীবন্ত সেতু  মেঘালয়ের উপত্যকাগুলির সংযোগ করেছ

এটা হচ্ছে  দিতল জীবন্ত সেতু

এখানে আরো কয়েকটি  বহু শতাব্দী পুরানো ব্রীজও আছে।

এরকম একটি ব্রীজ  পাঁচশত বছর টিকে থাকতে পারে।

এখানে সরকারী ভাবে তৈরী কোন ব্রীজ নেই তাই এই ব্রীজগুলো অনেক গুরুত্বপূর্ণ ।

স্টিল ব্রীজ  বৃষ্টিতে ভিজে দুর্বল হয়ে যায় কিন্তু জীবন্ত ব্রীজ  বৃষ্টিতে ভিজে শক্তিশালি হয়।

যেখানে মানুষের সহায্য প্রাকৃতি নিজেই করে থাকে
সেখানে এর চেয়ে বড় আর্শিবাদ  কি হতে পারে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here