Home » bangladesh » সঙ্কটে কলকাতা | নিঃস্ব ক্ষুদ্র বিক্রেতা | ধুঁকছে নিউ মার্কেট

সঙ্কটে কলকাতা | নিঃস্ব ক্ষুদ্র বিক্রেতা | ধুঁকছে নিউ মার্কেট

মহাসঙ্কটে কলকাতা। ক্রেতার অভাবে ধুঁকছে নিউমার্কেট| বর্ডার খুললে তবেই ব্যবসা কিন্তু সেটা কবে ? প্রশ্ন থেকেই যায়।

ভালো নেই কলকাতার নিউ মার্কেটের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। পথে বসার উপক্রম হয়েছে বাংলাদেশী ক্রেতার অভাবে। শুধু ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নয়, যারা বড় বড় দোকানের পসরা সাজিয়ে বসে আছে তারাও একে একে দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে।

১৪৪ বছরের পুরনো নিউ মার্কেট করোনা আবহে ধুঁকছে আর ব্যবসার অভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক দোকান। কলকাতার প্রাণকেন্দ্র এই ধর্মতলা অঞ্চলে প্রায় ২ হাজার ৩০০ দোকান আছে । জামা-কাপড় থেকে শুরু করে প্রসাধনী সবই পাওয়া যায় এই নিউ মার্কেটে।

স্বাভাবিক সময়ে কলকাতা নিউমার্কেট বাংলাদেশি ক্রেতায় ঠাসা থাকলেও, করোনার কারণে এবারের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মতো ৬৮ দিন বন্ধ থাকার পর মার্কেটটি খুললেও, বাংলাদেশি ক্রেতা না থাকায় বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ব্যবসায়ীরা। করোনা মহামারির আগে কলকাতা নিউমার্কেটে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ কোটি রুপীর বেচাকেনা হলেও, বর্তমানে তা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

বাংলাদেশ থেকে যারা কলকাতায় কোনো কাজে আসেন তারা মূলত এই নিউ মার্কেটের আশেপাশে মির্জা গালিব স্ট্রীট বা সাডার স্ট্রীট অঞ্চলের হোটেলে থাকেন। আর বাংলাদেশি মানুষদের পছন্দের কেনাকাটার জায়গাই হলো এই নিউ মার্কেট।

এমনকি, যারা ভারতের সমালোচনা করতে করতে মুখে ফেনা তুলে তাদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ের বাজারটা পর্যন্ত কলকাতা থেকে না করলে বিয়ের পরিপূর্ণতা আসেনা। কিন্তু এখন সম্পুর্ণ ভিন্ন অবস্থা।

নিউ মার্কেটের কিছু ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে অনেক তথ্যই জানা যায় যা ভিডিওটিতে দেওয়া আছে। আপনার চাইলে পুরো ভিডিওটা দেখতে পারেন।

বিভিন্ন উৎসবে কি পরিমান বাংলাদেশী ভারতে আসতো তাদের কথা থেকেই স্পষ্ট। ঈদ বা নববর্ষে শুধু কলকাতাতেই দৈনিক গড়ে দুই থেকে আড়াই লক্ষ বাংলাদেশি অবস্থান করে এবং নানাভাবে অর্থ ব্যয় করে।। কিন্তু এবার সম্পুর্ণভাবে বন্ধ।

বহু দোকান আছে যারা একেবারেই বন্ধ করে দিয়েছে। কিছু বিক্রেতারা অপেক্ষায় আছে যে হয়তো খুব তারা তারি বাংলাদেশীদের ভিসা হয়ে যাবে। আর তাদের ব্যবসা আবার আগের মত চালু হবে। কিন্তু অপেক্ষার প্রহর যেন শেষ হচ্ছে না।

ভিডিওতে দেখানো হয়েছে নিউ মার্কেটের প্রাণ কেন্দ্রে এই সিটি মার্ট শপিং মল। কিন্তু এখন বন্ধ। এরকম বহু দোকান পাট বন্ধ আছে করোনার আবহে। যেখানে শতকরা ৮০% ক্রেতা ছিল বাংলাদেশী। বছরে নানা কারণে অন্তত 25 লক্ষ বাংলাদেশি ভারতে ভ্রমণ করে থাকে। তারা এই সব দোকানগুলোতেই তাদের কেনা কাটা করে থাকে।

নিউ মার্কেটের বিক্রেতাদের হাই-হুতাশ। কোনো রকম টিকে থাকার লড়াইয়ে তারা ব্যস্ত থাকার চেষ্টা করছে। কিন্তু কত দিন! বাংলাদেশী এই ভ্রমণকারীরা প্রতিবছর গড়ে অন্তত আড়াই হাজার কোটি রুপি ব্যয় করে আসে শুধু কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকাতেই। এটা কিন্তু ভারতের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে।।

আসলে কলকাতার নিউমার্কেট এরিয়াতে যত দোকানপাট বসে সেগুলো শুধু বাংলাদেশীদের কে কেন্দ্র করে পুরো নিউমার্কেট পরিচালিত হয়। এখন করোনার এই মহা দুর্যোগের সময় তারা টের পাচ্ছে যে, করোনা তাদের কতটুকু ক্ষতি করে গেলো।

আমাদের ব্যবসা প্রায় বন্ধ, জানালেন দেবু ভট্টাচার্য, যিনি নিউ মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের সম্পাদক। তিনি বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতিদিন যদি ৫০ হাজার ক্রেতা নিউ মার্কেটে আসেন, তার প্রায় ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের মানুষ। এবং দৈনিক গড় ব্যবসার প্রায় সাত কোটি রুপি বাংলাদেশি ক্রেতাদের থেকে আসে। করোনার কারণে তারা আসছেন না।
বাংলাদেশ কেন্দ্রিক গড়ে উঠা দোকানপাট সব বন্ধ, তাদের অর্থনৈতিক দিক দিয়ে নাজুক অবস্থা চলছে। এভাবে চলতে থাকলে সামনে আরো খারাপ অবস্থা বিরাজ করবে।

করোনাতে ব্যবসা মন্দা থাকলেও নিউ মার্কেট ঘুরে ঘুরে বেশ কিছু দোকানে দেখা গেলো ভিন্ন চিত্র। তারা প্রতিটি দোকানে সেনিটাইজারের ব্যবস্থা করে রেখেছে। প্রতিটি বড় বড় দোকানেই এই ব্যবস্থা।

নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে দোকানিরা বসে থাকলেও, বেচা বিক্রি একেবারেই কম। স্থানীয় ক্রেতাদের উপস্থিতি মোটামুটি দেখা গেলেও, করোনা মহামারির কারণে অনুপস্থিত মার্কেটের প্রাণ বাংলাদেশি ক্রেতারা। এর বড় সড় প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ীদের ওপর। ভিডিওতে যে দোকানটি দেখা যাচ্ছে এই দোকানে যারা আছে তারা কিন্তু মূলত স্থানীয়। তাদের কাছে বেচা বিক্রি হয় মাত্র ২০% । আর ৮০ ভাগ বিক্রি হয় বাংলাদেশী ক্রেতাদের কাছে।
এই দোকানীর সাথে কথা বলে জানা যায়, পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে জানি না, তবে বাংলাদেশ থেকে মানুষ ভারতে আসা শুরু করলে আমাদের আবার কিছু ব্যবসা হবে।

ভারতে লকডাউনের পরবর্তী সময়ে দোকানপাট, শপিংমল খোলার সঙ্গে সঙ্গে নিউ মার্কেটও খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু গত প্রায় ৫০ দিনে নিউ মার্কেটে কোনো ব্যবসাই হয়নি।
এ অবস্থায় প্রতিদিন কিছু কিছু দোকান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হচ্ছে। সেখানের ব্যবসায়ী দেবু বাবু জানালেন, নিউ মার্কেটের ১৪৪ বছরের ইতিহাসে এমন দুর্দিন আগে কখনো আসেনি।

তবে সব কিছুই আবার স্বাভাবিক হোক এমটাই প্রত্যাশা সবার। কারণ ব্যবসা ভারতীয়রা করলেও আমরা বাংলাদেশীরা কিন্তু আমাদের সুবিধার কারণেই কেনাকাটা করি কলকাতা গিয়ে ।

আপনি এই খবরটি শেয়ার করতে পারেন!
প্রকাশ: শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২০এই লেখাটি 329 বার পড়া হয়েছে